আহমেদাবাদের রাস্তায় র্যাপিডো চালিয়ে মাসিক আয় মাত্র ১০ হাজার টাকা, অথচ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঘোরাফেরা করছে ৩০০ কোটি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ইডির তদন্তে উঠে এল এমনই এক হাড়হিম করা জালিয়াতির গল্প। DailyHunt-এর পাঠকদের জন্য এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিচে সাজানো হলো:
ভাইরাল ও ক্লিকযোগ্য শিরোনাম (Clickbait & Hook Titles)
১. র্যাপিডো চালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি! আহমেদাবাদে ইডির জালে বিশাল চক্র, যেভাবে চলত হাওলা ও বেটিংয়ের খেলা।
২. ১০ হাজারের মাইনে, অথচ চেকে সই করলেই মিলত ৪০০ টাকা! প্রদীপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই ফাঁস হলো ৫৫০ কোটির কেলেঙ্কারি।
৩. আপনার আধার-প্যান কি অন্যের হাতে? সাবধান! প্রদীপ ওডের মতো আপনিও ফেঁসে যেতে পারেন ৩০০ কোটির জালে।
মূল প্রতিবেদন
নিউজ ডেস্ক (আহমেদাবাদ): পেশায় তিনি একজন সাধারণ র্যাপিডো চালক, নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর দশা। কিন্তু তাঁর ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট দেখলে যে কোনো ধনকুবেরের চোখ চড়কগাছ হতে বাধ্য। গুজরাতের প্রদীপ ওডে নামে এক যুবকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের হদিস পেয়ে পর্দাফাঁস হলো এক বিশাল আর্থিক জালিয়াতি চক্রের। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) জানিয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে।
২৫ হাজারে বিক্রি হয়েছিল সততা:
তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, অভাবের তাড়নায় প্রদীপ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি কিরণ পারমার নামে এক ব্যক্তিকে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় ‘ভাড়া’ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রতিটি চেকে সই করার বিনিময়ে তিনি পেতেন অতিরিক্ত ৪০০ টাকা। তাঁর অজান্তেই তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে খোলা হয়েছিল ‘প্রদীপ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ভুয়ো সংস্থা।
তদন্তে উঠে এল আরও বিস্ফোরক তথ্য:
ভুয়োর জাল: প্রদীপের মতো আরও কয়েকজনকে ব্যবহার করে ‘কমলেশ ট্রেডিং’ ও ‘রৌনক ট্রেডার্স’ নামে আরও দুটি কাগজ-কলমে সংস্থা খোলা হয়েছিল। বাস্তবে এই সব সংস্থার কোনো অস্তিত্বই নেই।
সাদা হতো কালো টাকা: অনলাইন ক্রিকেট বেটিং ও অবৈধ শেয়ার ব্যবসার মাধ্যমে সংগৃহীত কালো টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলোতে ঘুরিয়ে ‘সাদা’ করা হতো।
হাওলা যোগ: পেনি স্টকের কারসাজি এবং কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ার বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও চালাচ্ছিল এই চক্রটি।
বিলাসবহুল বিয়ে ও ইমপ্যাক্ট গুরু লিঙ্ক:
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই তছরুপের টাকা দিয়ে গাঁধিধাম এলাকার এক ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত খরচ এবং কয়েক কোটি টাকার রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এমনকি ‘ইমপ্যাক্ট গুরু’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সন্দেহজনক অনুদানের হদিসও পেয়েছে ইডি। এই পুরো চক্রের নেপথ্যে শেখ মইন মোহাম্মদ শফি নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে আসছে, যার একাধিক পরিচয় রয়েছে।
আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছে ইডি। র্যাপিডো চালক প্রদীপ এখন তদন্তকারীদের প্রধান সাক্ষী। এই চক্রের মূল হোতাদের ধরতে এবং পাচার হওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে তল্লাশি জারি রেখেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।