শবরীমালায় কি নিষিদ্ধই থাকছে মহিলারা? প্রাচীন প্রথা রক্ষায় বদ্ধপরিকর টিডিবি

শবরীমালা মন্দিরের গর্ভগৃহে ঋতুস্রাবকালীন মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের বিরোধিতায় এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটল কেরলের প্রভাবশালী ত্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ড (TDB)। সোমবার বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, মন্দিরের কয়েক দশকের প্রাচীন রীতিনীতি বজায় রাখতেই তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে হলফনামা দাখিল করবে।

প্রাচীন প্রথা বনাম আদালতের রায়: ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং একাধিক পুনর্বিবেচনা আবেদন জমা পড়ে। বর্তমানে সেই আবেদনগুলো সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে বিচারাধীন। আদালত আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকার ও দেবস্বম বোর্ডকে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে।

বোর্ডের অনড় অবস্থান: টিডিবি-র সভাপতি কে. জয়কুমার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বোর্ড বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে মন্দিরের ঐতিহ্য রক্ষা করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “ট্রাভাঙ্কোর হিন্দু ধর্মীয় আইন অনুযায়ী মন্দিরের প্রাচীন প্রথা ও নিয়ম রক্ষা করা বোর্ডের আইনি দায়িত্ব। আমরা আদালতের কাছে সেই প্রথা বজায় রাখার পক্ষেই সওয়াল করব।”

মতভেদ নেই বোর্ডের অন্দরে: জয়কুমার আরও স্পষ্ট করেছেন যে, মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিরোধিতায় বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই। যদিও রাজ্য সরকার চাইলে নিজেদের আলাদা অবস্থান নিতে পারে, কিন্তু বোর্ড আইনগতভাবে মন্দিরের প্রচলিত নিয়ম রক্ষায় দায়বদ্ধ।

শবরীমালার আয়াপ্পা স্বামীর এই প্রাচীন প্রথা কি শেষ পর্যন্ত আধুনিক আইনের কাছে হার মানবে, নাকি ঐতিহ্যের জয় হবে? ১৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া হলফনামার দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy