“৩টি দেশ বনাম ইরান!”-চলছে তুমুল যুদ্ধ, ভারতীয়দের বাঁচাতে কী ছক কষলেন মোদী?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের বারুদে কালো। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘাতে কার্যত কাঁপছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার বাহরিন ও সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন— সঙ্কটের এই মুহূর্তে ভারত তার বন্ধু দেশগুলোর পাশেই রয়েছে।

প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা প্রথম অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রথমে বাহরিনের রাজা কিং হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গে কথা বলেন। বাহরিনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাহরিনে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর নিরাপত্তা। নির্মাণ থেকে স্বাস্থ্য— সব ক্ষেত্রে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাহরিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সাউথ ব্লক।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক বাহরিনের পর প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন আল সৌদকে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মোদী কড়া ভাষায় বলেন, পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে, যা কাম্য নয়।

ভারতের ত্রিভুজ কৌশল: শান্তি, নিন্দা ও সুরক্ষা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারত তিনটি প্রধান স্তম্ভে তার কূটনীতি সাজিয়েছে:

  • শান্তির পক্ষে অবস্থান: যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।

  • হামলার নিন্দা: বন্ধু দেশগুলোতে ইরানি হামলার কড়া বিরোধিতা।

  • প্রবাসী সুরক্ষা: উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা ভারতীয়দের জন্য জরুরি সহায়তা বা ‘ইভাকুয়েশন’ প্ল্যান অ্যাকটিভ রাখা।

কেন চিন্তিত ভারত? জ্বালানি আমদানি থেকে শুরু করে বিপুল বিনিয়োগ— উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ভারতের বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy