ভারতীয় সেনাবাহিনীর সবচেয়ে প্রাচীন এবং সিনিয়র রেজিমেন্ট হলো ‘প্রেসিডেন্টস বডিগার্ড’ বা PBG। ১৭৭৩ সালে ওয়ারেন হেস্টিংসের হাত ধরে বেনারসে মাত্র ৫০ জন অশ্বারোহী নিয়ে শুরু হওয়া এই বাহিনীর ইতিহাস আজ ২৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। তবে আধুনিক যুগেও এই রেজিমেন্টের একটি বিশেষ নিয়ম নিয়ে বারবার বিতর্ক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে—আর তা হলো এর নিয়োগ নীতি।
পুরো ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন ‘অল ইন্ডিয়া, অল ক্লাস’ নীতিতে চললেও, PBG আজও কেবল তিনটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় থেকে সৈন্য নিয়োগ করে: হিন্দু জাট, হিন্দু রাজপুত এবং জাট শিখ। এর মধ্যে ৩৩.৩ শতাংশ হারে প্রতিটি সম্প্রদায়ের কোটা নির্দিষ্ট। এমনকি শারীরিক মাপকাঠিতেও রয়েছে কড়াকড়ি; ট্রুপারদের ন্যূনতম উচ্চতা হতে হবে ৬ ফুট। সেনাবাহিনীর যুক্তি, প্যারেডে অভিন্ন উচ্চতা এবং গঠনগত সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই ঐতিহ্যবাহী কাঠামো রক্ষা করা হয়।
যদিও এই নিয়োগ নীতি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে একাধিকবার চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, কিন্তু সামরিক প্রয়োজন ও ঐতিহ্যের স্বার্থে আদালত একে সরাসরি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেনি। তবে ভুললে চলবে না, পিবিজি ট্রুপাররা কেবল আনুষ্ঠানিক প্যারেডেই সীমাবদ্ধ নন। তাঁরা একাধারে দক্ষ প্যারাট্রুপার এবং আর্মার্ড ইউনিট পরিচালনায় ওস্তাদ। সিয়াচেন হিমবাহ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন—প্রতিটি রণক্ষেত্রেই নিজেদের বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতির এই অতন্দ্র প্রহরী বাহিনী।