পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝেই ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার আন্তর্জাতিক চর্চা। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, বাহারিন এবং জর্ডানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেইনিকে হত্যার ঘটনায় দিল্লির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কূটনৈতিক মহল।
মোদী সরকারের এই অবস্থানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধে তিনি সরাসরি লিখেছেন, “ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানকে টার্গেট করে হত্যায় নয়া দিল্লির নীরবতা নিরপেক্ষতার পরিচয় দেয় না।” সেই নিবন্ধ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন রাহুল গান্ধীও। বিরোধীদের অভিযোগ, ভারত কি তবে তার দীর্ঘদিনের জোট-নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসছে?
অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পর মোদী স্পষ্ট করেছেন, ভারত আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের পক্ষপাতী। তবে কংগ্রেস সাংসদ মণীষ তিওয়ারির পাল্টা অভিযোগ, কোনো সার্বভৌম দেশের সরকার উৎখাত করার চেষ্টাকে ভারতের সমর্থন করা উচিত নয়। এখন দেখার, যুদ্ধের এই আবহে ভারত নিজের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে কি না।