সরকারি স্তরে লাগাতার প্রচার, স্কুল-কলেজে সচেতনতা শিবির— এত কিছুর পরেও যেন রাশ টানা যাচ্ছে না নাবালিকা বিয়েতে। পশ্চিমবাংলার কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান রীতিমতো কপালে ভাঁজ ফেলেছে স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের। গত দুই বছরে এই হাসপাতালে মা হওয়া নাবালিকাদের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান যা বলছে: শিউরে ওঠার মতো তথ্য
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মোট ৬২১ জন নাবালিকা সন্তান প্রসব করেছেন। আর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭০-এ। অর্থাৎ, গত দুই বছরে গড়ে প্রতি মাসে ৫০ জনেরও বেশি নাবালিকা এখানে মা হয়েছেন। যার মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।
এক নজরে পরিসংখ্যান:
-
২০২৪ সাল: ৬২১ জন নাবালিকা মা।
-
২০২৫ (এপ্রিল-ডিসেম্বর): ৪৭০ জন নাবালিকা মা।
-
উৎপত্তি: শুধু কালনা নয়, হুগলি, নদিয়া এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও নাবালিকারা এখানে প্রসবের জন্য আসছেন।
পুলিশি তৎপরতা ও সামাজিক ব্যাধি
নাবালিকা বিয়ের জেরে শনিবারই মন্তেশ্বর থানার পুলিশ পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নাবালিকার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রশাসনের দাবি, ব্লক থেকে পুরসভা পর্যন্ত নজরদারি দল গঠন করা হয়েছে। পুরোহিত থেকে শুরু করে ডেকরেটর—সবাইকে সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অভিভাবকদের নজরদারির অভাবেই নাবালিকারা পালিয়ে বিয়ে করার পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসা ও ঝুঁকির আশঙ্কা
কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সহকারী সুপার গৌতম বিশ্বাস জানান, “হাসপাতালে কোনো প্রসূতি এলে আমাদের ভর্তি নিতেই হয়। তবে প্রতিটি নাবালিকা প্রসবের ঘটনা আমরা নিয়ম মেনে পুলিশকে জানাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অল্প বয়সে মা হওয়ার ফলে মা ও শিশু—উভয়েরই প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন জানিয়েছেন, এই পরিসংখ্যান কেবল কালনা মহকুমার নয়, আশপাশের জেলা থেকেও বহু নাবালিকা এখানে পরিষেবা নিতে আসায় সংখ্যাটা এমন দেখাচ্ছে। তবে মহকুমা জুড়ে সচেতনতার প্রচার আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কন্যাশ্রী ও রূপশ্রীর মতো প্রকল্পের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন শৈশবেই মাতৃত্বের বোঝা চাপছে মেয়েদের কাঁধে? এই প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলছে সমাজকর্মীদের।