খামেনেই হত্যার বদলা! ১৪টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল বৃষ্টি, মৃত কয়েকশো সেনা?

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রণংদেহি মূর্তিতে ইরান। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ এয়ারস্ট্রাইকের পালটা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তাণ্ডব শুরু করল ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)। দাবি করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মোট ১৪টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছুড়েছে তেহরান।

রক্তক্ষয়ী বদলা: টার্গেট যখন মার্কিন নৌবহর

ইরানের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বাহারিনের জুফেয়ার এলাকা। এখানেই অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) শক্তিশালী ঘাঁটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশাল বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আর আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়। এখানেই শেষ নয়, কাতার, কুয়েত এবং জর্ডনে থাকা মার্কিন এয়ারবেসগুলোতেও একের পর এক মিসাইল আছড়ে পড়েছে বলে খবর।

দাবি ও পালটা দাবির লড়াই

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কয়েকশো মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবিকে স্রেফ ‘প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পালটা দাবি, হামলার আগাম আভাস পেয়েই ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ফলে প্রাণহানির কোনও ঘটনা ঘটেনি।

কোন কোন ঘাঁটিতে চলল তাণ্ডব?

ইরানের মিসাইল বৃষ্টির নিশানায় ছিল মূলত চারটি বড় ঘাঁটি:

  • কাতার: আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি (সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি)।

  • কুয়েত: আল সালীম মিলিটারি বেস।

  • জর্ডন: মুওয়াফ্ফাক সালটি এয়ারবেস।

  • বাহারিন: মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর।

দুবাই ও দোহার আকাশে আগুনের ফুলকি

শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, এই যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে দুবাই ও দোহার মতো পর্যটন শহরগুলোতেও। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাঝ আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইরানের ড্রোন বা মিসাইল ধ্বংস করার ফলেই আকাশে এই অগ্নিবৃষ্টি দেখা গিয়েছে।

আয়াতোল্লাহ খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান যেভাবে সপরিবারে নিধনের বদলা নিতে শুরু করেছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। পরবর্তী লক্ষ্য কি তবে ইজরায়েল? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy