“৫ ভাগে ভাঙছে মুসলিম ভোট!”-ISF-মিম-হুমায়ুন কবীর ত্র্যহস্পর্শে কি কপাল পুড়বে ঘাসফুলের?

বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে, তা বরাবরই ঠিক করে দেয় সংখ্যালঘু ভোট। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সেই অটুট ভোটব্যাঙ্কে সিঁদ কাটতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে তিনটি সংখ্যালঘু ভিত্তিক দল। একদিকে নওশাদ সিদ্দিকির ISF, অন্যদিকে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির AIMIM এবং মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীরের JUP— এই ত্রিমুখী আক্রমণে ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ এখন তুঙ্গে।

নওশাদ ও বামেদের জোট অঙ্ক: ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির জনপ্রিয়তা গত পাঁচ বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বিমান বসুর সঙ্গে বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে যে, আইএসএফ এবার ৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলির একাংশে বাম-আইএসএফ জোট তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।

মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার: তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবার নিজের দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে তাঁর প্রভাব অস্বীকার করার জায়গা নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবীর ক’টা আসন জিতবেন তার চেয়ে বড় প্রশ্ন— তিনি তৃণমূলের কত শতাংশ ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দেবেন।

মিম ও উত্তরের সমীকরণ: বিহার সংলগ্ন উত্তর দিনাজপুর ও মালদায় মিমের প্রভাব বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল। এর পাশাপাশি মালদা উত্তরে মৌসম বেনজির নূরের কংগ্রেসে ফিরে যাওয়া এবং গনি খান পরিবারের প্রভাব তৃণমূলের জন্য বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃণমূলের পাল্টা চাল: সংখ্যালঘু ভোট অটুট রাখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সিপিএম থেকে প্রতীক-উর-রহমানকে দলে টেনেছেন। জল্পনা রয়েছে, কোনও হেভিওয়েট আসনে তাঁকে প্রার্থী করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে জোড়াফুল শিবির। হিন্দু ভোটের মেরুকরণ রুখতে বিজেপি যখন আগ্রাসী, তখন সংখ্যালঘু ভোট পাঁচ ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়া শাসক দলের জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy