সুপার এইটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের এই জয়ে বিশ্বকাপের সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গেল। বিশেষ করে ভারতীয় দলের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ।
প্রোটিয়া ব্যাটারদের তাণ্ডব রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনিং জুটিতে এইডেন মার্করাম এবং কুইন্টন ডি কক মাত্র কয়েক ওভারেই ৯৫ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ডি কক মাত্র ২৪ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। ডি কক আউট হওয়ার পর হাল ধরেন অধিনায়ক মার্করাম। তিনি ৪৬ বলে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। যোগ্য সঙ্গত দেন রায়ান রিকেলটন (২৮ বলে ৪৫*)।
হোল্ডার-শেফার্ডের লড়াই বৃথা এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাগিসো রাবাদা এবং লুঙ্গি এনগিডির বোলিং তোপে মাত্র ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। শাই হোপ (১৬) ও ব্র্যান্ডন কিং (২১) বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তবে শেষ দিকে জেসন হোল্ডার (৩১ বলে ৪৯) এবং রোমারিও শেফার্ডের (৩৭ বলে ৫২*) ৮৯ রানের লড়াকু পার্টনারশিপে ভর করে ১৭৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ক্যারিবিয়ানরা। কিন্তু প্রোটিয়া ঝড়ের সামনে সেই রান যথেষ্ঠ ছিল না।
ভারতের সেমিফাইনাল সমীকরণ এই ম্যাচের ফলাফলের দিকে নজর ছিল কোটি কোটি ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলে ভারতের জন্য সেমিফাইনালের রাস্তা বেশ জটিল হয়ে উঠত। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়লাভ করায় পয়েন্ট টেবিলের হিসেবে ভারত এখন সুবিধাজনক অবস্থানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
-
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৭৬/৮ (২০ ওভার) – শেফার্ড ৫২*, হোল্ডার ৪৯; রাবাদা ২/২৪।
-
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭৯/১ (১৮.৪ ওভার) – মার্করাম ৮২*, ডি কক ৪৭, রিকেলটন ৪৫*।