৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ শেষ হয়েছে সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ। স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৯ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) দিকে। তবে মোদী সরকার এখনও এই কমিশন গঠন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করায় বাড়ছে জল্পনা। এর মধ্যেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য— কমিশন গঠিত হলেও এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এক বিরাট অংশের কর্মচারী।
কারা পাবেন না অষ্টম বেতন কমিশনের সুবিধা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশন বাস্তবায়িত হলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক সুবিধা মিলবে না:
-
বেসরকারি কর্মচারী: এই সুপারিশ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য। বেসরকারি খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে এর কোনও প্রভাব নেই।
-
চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মী: কেন্দ্রীয় দফতরে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক (Contractual) বা ক্যাজুয়াল কর্মীরা যেহেতু ‘সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিস’ নিয়মের আওতায় পড়েন না, তাই তাঁদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ।
-
রাজ্য সরকারি কর্মচারী: রাজ্য সরকারের কর্মীরা সরাসরি এই সুবিধা পাবেন না। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রীয় সুপারিশ আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্রহণ করে, তবেই তাঁরা সুবিধা পাবেন।
-
PSU ও স্বশাসিত সংস্থা: পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং বা স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বেতন কাঠামো থাকে। তারা নিজস্ব নিয়মে কেন্দ্রীয় সুপারিশ কার্যকর করলে তবেই কর্মীরা লাভবান হবেন।
কবে কার্যকর হতে পারে এই কমিশন?
ইতিহাস বলছে, সপ্তম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও অনুমোদন মিলেছিল ২০১৬-র জুন মাসে। সেই ট্রেন্ড বজায় থাকলে, সরকার যখনই অনুমোদন দিক না কেন, অষ্টম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
[Table: অষ্টম বেতন কমিশনের সম্ভাব্য প্রভাব]
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি (সপ্তম কমিশন) | সম্ভাব্য পরিবর্তন (অষ্টম কমিশন) |
| ন্যূনতম মজুরি | ১৮,০০০ টাকা | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা |
| ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর | ২.৫৭ | ৩.৬৮ পর্যন্ত বাড়ার অনুমান |
| উপভোক্তা | কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী | ১.২ কোটিরও বেশি মানুষ |
সরকারের কড়া বার্তা:
কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে ভাতা ও বেতন সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুসারেই দেওয়া হচ্ছে। অষ্টম বেতন কমিশন সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি। তাই কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি ঘোষণার ওপর ভরসা রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।