সমস্ত জল্পনার অবসান। মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নেই বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা। সিপিএমের ‘পোস্টার বয়’ তথা ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন লোকসভা প্রার্থী প্রতীক উর রহমান সরকারিভাবে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। শনিবার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নিলেন তিনি। আর যোগ দিয়েই ‘ডিল’ বিতর্কে সপাটে জবাব দিলেন এই তরুণ তুর্কি।
‘ডিল হয়েছে বিজেপিকে আটকানোর’
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, বড় কোনো ‘ডিল’ বা বিধানসভার টিকিটের বিনিময়ে দলবদল করছেন প্রতীক। এদিন অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে সেই জল্পনা উস্কে দিয়ে প্রতীক বলেন, “হ্যাঁ, ডিল হয়েছে। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকানোর ডিল হয়েছে। আমার নীতি-নৈতিকতা একটাই—ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখে দেওয়া।” ### টিকিট নয়, সংগঠনের কাজই লক্ষ্য অনেকেই ভেবেছিলেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোনো নিশ্চিত আসনের প্রতিশ্রুতি পেয়েই তিনি দলবদল করেছেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। অভিষেকের দাবি:
-
প্রতীক নিজে জানিয়েছেন তিনি কোনো টিকিটের জন্য আসেননি।
-
দল টিকিট দিতে চাইলেও তিনি তা নেবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন।
-
আগামী দিনে তৃণমূলের হয়ে নিচুতলায় সাংগঠনিক কাজ করতে চান তিনি।
অভিষেক এদিন সিপিএমকে বিঁধে বলেন, “প্রতীক লড়াই করা ছেলে। অথচ নিজের দলেই ওকে বেইমান দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওর মতো মানসিকতার ছেলে আজকের রাজনীতিতে বিরল।”
ডায়মন্ড হারবারের সমীকরণে বদল?
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে এই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কাস্তে-হাতুড়ি চিহ্নে লড়াই করেছিলেন প্রতীক। সেই ‘হেভিওয়েট’ প্রতিপক্ষই এখন অভিষেকের সহযোদ্ধা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সিপিএমের যুব সংগঠনে প্রতীকের ভালো প্রভাব রয়েছে। তার এই দলবদল বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই জেলায় বামেদের জন্য বড় ধাক্কা এবং তৃণমূলের জন্য বাড়তি অক্সিজেন।
সিপিএমের কড়া পদক্ষেপ
প্রতীক উর রহমান যখন আমতলায় তৃণমূলের উত্তরীয় পরছেন, ঠিক সেই সময়ই আলিমুদ্দিনের তরফে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরেই দলের একাংশের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পার্টি মেম্বারশিপ রিনিউ না করা নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। অবশেষে সেই টানাপোড়েনের সমাপ্তি ঘটল জোড়াফুল শিবিরে যোগদানের মাধ্যমে।