পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম ‘বিশ্বাসের অভাব’ (Trust Deficit) ঘোচাতে এখন থেকে ভোটার তালিকার প্রতিটি তথ্য যাচাই করবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।
সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ:
-
তত্ত্বাবধান: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অধীনে জেলা বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের একটি বিশেষ কমিটি কাজ করবে।
-
সিদ্ধান্ত: ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এই জুডিশিয়াল অফিসাররা।
-
বৈঠক: দ্রুত জট কাটাতে শনিবারই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তা, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি।
তৃণমূলের দাবি: ‘কমিশনের দম্ভ চুরমার’
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দেখছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে SIR করার দাবি জানিয়েছিলেন। সমাজ মাধ্যমে তারা লেখে:
“নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতার খেলা শেষ! ERO-দের কাজে বাধা দিয়ে ভোটার বাদ দেওয়ার যে চক্রান্ত চলছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা নজিরবিহীন তিরস্কারের মাধ্যমে থামিয়ে দিল।”
পাল্টা তোপ বিজেপির: ‘রাজ্যই বাধা দিচ্ছে’
বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের অভিযোগ, শুরু থেকেই রাজ্য সরকার ও তাদের আধিকারিকরা SIR-এর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। বিডিও অফিসে আগুন লাগানো থেকে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট— সবকিছুর দায় তৃণমূলের ওপর চাপিয়ে তাঁর প্রশ্ন, “অসহযোগিতা করছে রাজ্য সরকার, আর দায় চাপানো হচ্ছে কমিশনের ওপর।”
সেলিমের সাফ কথা: ‘অপদার্থ প্রশাসন’
বামফ্রন্টও এই ইস্যুতে কড়া সমালোচনা করেছে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্র— দুজনেই কতটা অপদার্থ হলে ভোটার তালিকা ঠিক করতে বিচারপতি নিয়োগ করতে হয়? গত তিন মাস ধরে বাংলার মানুষ এক চরম ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।”
ভোট কি তবে দোরগোড়ায়?
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। নিরপেক্ষ বিচারকদের তত্ত্বাবধানে এবার কত নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের ভাগ্য।