মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে ফের সরগরম আন্তর্জাতিক রাজনীতি। গত বছর পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি একাই মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে দাবি করলেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি— শুল্কের ভয় দেখিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিলেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজা ইস্যুতে আয়োজিত ‘বোর্ড অফ পিস’ মিটিংয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে প্রকাশ্যে উঠে দাঁড়াতে বলে ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই লড়াই ছিল ভয়ংকর। ১১টি দামি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। আমি দুই রাষ্ট্রপ্রধানকেই ফোন করে সাফ জানিয়ে দিই, যুদ্ধ না থামালে ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব এবং সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।” ট্রাম্পের দাবি, তাঁর এই ‘আর্থিক হুঁশিয়ারি’র কারণেই আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
মজার বিষয় হলো, এর আগে ট্রাম্প ৭টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের কথা বললেও এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১১ করেছেন। ভারত অবশ্য শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে। দিল্লির স্পষ্ট অবস্থান— এই সংঘর্ষ থামাতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই অতিশয়োক্তি আসলে তাঁর আসন্ন নির্বাচনী প্রচারের অংশ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন ‘টাকার জোরে শান্তি’র তত্ত্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে।