ট্রাম্পকে সাফ ‘না’ ব্রিটেনের! ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপাকে আমেরিকা?

মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা এবার অতলান্তিকের দুই পাড়ের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও ফাটল ধরাল। ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে সরাসরি অস্বীকার করল ব্রিটেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) মাটি ব্যবহার করে তেহরানে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে। ব্রিটেনের এই সাহসী কিন্তু কড়া সিদ্ধান্তে বেজায় চড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ব্রিটেনের আপত্তির কারণ ও সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব সূত্রের খবর, আমেরিকা ব্রিটেনের কাছে গ্লুচেস্টারশায়ারের ‘ফেয়ারফোর্ড’ এয়ার বেস এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। এই ঘাঁটিগুলো ব্রিটেন ও আমেরিকা যৌথভাবে পরিচালনা করলেও, কোনো সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতি বাধ্যতামূলক। স্টারমার সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা নীতি কঠোরভাবে মেনে চলবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি মার্কিন হামলায় অংশীদার হবে না।

চটেছেন ট্রাম্প: চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে পাল্টা চাপ? ব্রিটেনের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানকে রুখতে দিয়েগো গার্সিয়ার মতো ঘাঁটির কোনো বিকল্প নেই এবং ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত একটি “মস্ত ভুল”। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই বিরোধের জেরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। ব্রিটেন এই দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েগো গার্সিয়াকে ৯৯ বছরের জন্য লিজে রাখার যে ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি পরিকল্পনা করেছে, ট্রাম্প তার ঘোর বিরোধী। ব্রিটেনের এই ‘না’ শোনার পর ট্রাম্প প্রশাসন চাগোস চুক্তি নিয়ে লন্ডনের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোপ ও আমেরিকার এই ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে কতটা পড়বে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy