ত্বকের রঙের পরিবর্তন বা কালো দাগকে আমরা সাধারণত সৌন্দর্যহানি হিসেবে দেখি। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট কালো ছোপ বা তিল আসলে ‘মেলানোমা’ বা স্কিন ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কখন ত্বকের দাগ দেখে সতর্ক হবেন? (ABCDE ফর্মুলা):
বিশেষজ্ঞরা ত্বকের দাগ বা তিল পরীক্ষার জন্য একটি সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন, যা আপনার জানা থাকা আবশ্যিক:
অপ্রতিসাম্য (Asymmetry): দাগটি কি দুই দিকে সমান? যদি দাগের একদিকের সাথে অন্যদিকের আকার না মেলে, তবে সেটি ভয়ের কারণ হতে পারে।
সীমানা (Border): দাগের চারপাশ যদি আঁকাবাঁকা, ঝাপসা বা অমসৃণ হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রঙ (Color): তিল বা দাগের রঙ কি সব জায়গায় একরকম? যদি একই দাগের মধ্যে কালচে, খয়েরি বা লালচে রঙের সংমিশ্রণ থাকে, তবে তা বিপজ্জনক।
ব্যাসার্ধ (Diameter): দাগটি কি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে? যদি কোনো তিল বা দাগ ৬ মিলিমিটারের চেয়ে বেশি বড় হয়, তবে তাকে অবহেলা করবেন না।
বিবর্তন (Evolution): কোনো পুরনো তিলের রঙ, আকার বা উচ্চতা কি হঠাৎ বদলে যাচ্ছে? সেখান থেকে রক্তপাত বা চুলকানি হলে তা মারাত্মক রোগের লক্ষণ।
কালো দাগের আড়ালে আরও যেসব সমস্যা থাকতে পারে:
১. অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস: ঘাড়, বগল বা কুঁচকির চামড়া কালো ও খসখসে হয়ে গেলে বুঝবেন শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে, যা ডায়াবেটিসের আগাম সংকেত।
২. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েড বা হরমোনের সমস্যার কারণেও মুখে ছোপ ছোপ কালো দাগ বা মেচেতা দেখা দিতে পারে।
৩. লিভারের সমস্যা: শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হতে না পারলেও ত্বকে কালচে ভাব দেখা দেয়।
প্রতিরোধে করণীয়:
কড়া রোদে বেরোনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন (SPF 30+) ব্যবহার করুন।
রোদে ছাতা, চশমা বা ফুলহাতা জামা পরে নিজেকে আড়াল করুন।
শরীরে কোনো নতুন তিল বা পুরনো দাগের পরিবর্তন লক্ষ্য করলে ঘরোয়া টোটকায় সময় নষ্ট না করে ডার্মাটোলজিস্ট দেখান।