কথায় আছে, “সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার পায়েই লুকানো”। আজকের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন ফিট থাকতে দামী জিম বা ডায়েটের পেছনে ছুটছি, তখন সবথেকে সহজ ও কার্যকরী উপায়টি আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে। আর তা হলো—প্রতিদিন নিয়ম মেনে হাঁটা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, প্রতিদিনের এই সামান্য অভ্যেসই আপনার শরীরের জন্য ‘পাওয়ার বুস্টার’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
কেন রোজ হাঁটবেন? জানুন এর অবিশ্বাস্য গুণাগুণ:
হার্ট থাকবে সোনার মতো: নিয়মিত হাঁটলে হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ধমনীর ব্লক হওয়ার ঝুঁকি কমে। এটি উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
ওজন কমবে দ্রুত: যারা জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম করতে অপছন্দ করেন, তাদের জন্য হাঁটা সেরা উপায়। প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটলে শরীর থেকে প্রচুর ক্যালরি বার্ন হয়, যা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত হাঁটলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে।
মানসিক প্রশান্তি ও স্মৃতিশক্তি: হাঁটার সময় আমাদের মস্তিষ্কে ‘এন্ডোরফিন’ বা সুখ হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি দুশ্চিন্তা কমায় এবং মন ভালো রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের বার্ধক্যে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
হাড় ও পেশির শক্তি: হাঁটা আপনার পায়ের পেশিকে সুগঠিত করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখে, যা ভবিষ্যতে গেঁটে বাত বা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।
সঠিকভাবে হাঁটার কিছু টিপস:
১. হাঁটার সময় ঢিলেঢালা পোশাক এবং আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করুন।
২. প্রথম দিকে ধীরে শুরু করলেও ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়ান (Brisk Walking)।
৩. হাঁটার সময় শিরদাঁড়া সোজা রাখুন এবং হাতগুলো স্বাভাবিকভাবে নাড়ান।
৪. প্রতিদিন অন্তত ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য স্থির করুন।
সম্পাদকীয় পরামর্শ: লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করা বা কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য রিকশা না নিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভ্যেস করুন। মনে রাখবেন, আজকের ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই আপনাকে আগামীতে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন উপহার দেবে।