কিডনি বিকল হওয়ার আগে শরীর দেয় এই ৯টি সংকেত! অবহেলা করলেই চিরতরে বিপদ

বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিডনি রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কিডনি রোগের সবথেকে ভয়ের দিক হলো, এর উপসর্গগুলো একদম শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া এবং নিয়ম মেনে চলা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

আপনার কিডনিকে আজীবন সতেজ রাখতে যে ৯টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে:

১. পর্যাপ্ত জল পান:
শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে জলের বিকল্প নেই। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত জল পানও কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী (সাধারণত ২-৩ লিটার) জল পান করুন।

২. লবণের পরিমাপে লাগাম:
অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি কিডনির ফিল্টারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাতে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস আজই বর্জন করুন।

৩. ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers) থেকে সাবধান:
মাথাব্যথা বা গা-হাত পা ব্যথায় আমরা হামেশাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেনকিলার খাই। এই অভ্যাস কিডনির জন্য মারণফাঁদ হতে পারে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা:
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। নিয়মিত প্রেশার মাপুন এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

৫. সুগার বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ডায়াবেটিস থাকলে কিডনি ফাংশন টেস্ট (KFT) নিয়মিত করানো জরুরি।

৬. ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ:
ধূমপান কিডনিতে রক্তপ্রবাহ ধীর করে দেয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। সুস্থ থাকতে যেকোনো ধরণের নেশা থেকে দূরে থাকুন।

৭. অতিরিক্ত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলা:
ব্যায়াম বা বডি বিল্ডিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া হাই-প্রোটিন ডায়েট বা পাউডার খাবেন না। এটি কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

৮. নিয়মিত কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম:
অলস জীবনযাপন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম আপনার রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখবে।

৯. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি:
রাতে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের প্রতিটি কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে। মানসিক চাপ কম থাকলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
যাদের পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে বা যারা দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের বছরে অন্তত একবার ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) এবং ইউরিন টেস্ট করানো উচিত।

সম্পাদকীয় নোট: কিডনি রোগ এক দিনে হয় না, এটি ভুল জীবনযাত্রার দীর্ঘকালীন ফল। আজই সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy