জেলা হাসপাতালে ভ্যাকসিনের ভাঁড়ার শূন্য! বেলেঘাটা আইডিতে ‘জলাতঙ্ক’ রোগীদের হাহাকার

জলাতঙ্ক এক ভয়ংকর মারণ রোগ। একবার শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ফলাফল হতে পারে প্রাণঘাতী। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে এই ভাইরাসের থেকেও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভ্যাকসিনের ঘাটতি নিয়ে। কলকাতা লাগোয়া জেলা হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টি-ব়্যাবিস ভ্যাকসিনের অমিল হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে দুশো থেকে আড়াইশো রোগী ছুটে আসছেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চক্কর কাটলেও মিলছে না প্রতিষেধক। যদিও রাজ্য স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম দাবি করেছেন, রাজ্যে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, কুকুর বা বিড়ালের আঁচড় ও কামড় থেকেই ৮০-৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে জলাতঙ্ক ছড়ায়। কামড়ের পর ক্ষতস্থান সাবান জল দিয়ে ধুয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা এবং ক্ষতস্থানে চুলকানি দেখা দিলেও, এই রোগের সবথেকে মারাত্মক লক্ষণ হলো ‘হাইড্রোফোবিয়া’ বা জলাতঙ্ক। আক্রান্ত ব্যক্তি জল দেখে আতঙ্কিত হন এবং বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশনের শিকার হন। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশ—ক্ষতস্থানে কখনোই ব্যান্ডেজ বাঁধা যাবে না। রাজ্যে টিকার জোগান নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে বেলেঘাটা আইডিতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy