বর্তমান যুগে আপনার কষ্টার্জিত টাকা ব্যাঙ্কে থাকলেও তা কতটা নিরাপদ? সাইবার অপরাধীদের নিত্যনতুন কৌশলে নিমেষের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জমানো পুঁজি। একটু অসতর্ক হলেই আপনার স্মার্টফোনটি হয়ে উঠতে পারে সর্বনাশের কারণ। কীভাবে জালিয়াতি রুখবেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের বিশেষ কিছু পরামর্শ।
যে ৫টি উপায়ে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে:
-
বিপজ্জনক লিঙ্ক স্ক্যাম: এসএসএস (SMS) বা হোয়াটসঅ্যাপে আকর্ষণীয় কোনো অফারের লিঙ্ক পাঠানো হয়। ওই লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই আপনার ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে এবং অ্যাকাউন্ট হয়ে যেতে পারে সাফ।
-
বিদেশি নম্বর থেকে কল: ভারতের কোড (+91) বাদ দিয়ে অন্য কোনো দেশের নম্বর থেকে ফোন এলে সতর্ক হোন। অনেক সময় এই ধরনের কল রিসিভ করলে বা কথা বললেই হ্যাকাররা ওটিপি ছাড়াই আপনার তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
-
ব্যাঙ্ক আধিকারিক সেজে ফোন: কোনো ব্যাঙ্কের নাম করে ফোন করে পিন, ওটিপি (OTP) বা সিভিভি (CVV) চাইলে ভুলেও দেবেন না। মনে রাখবেন, কোনো ব্যাঙ্ক ফোনে গোপন তথ্য জানতে চায় না।
-
ভুল অ্যাপ ডাউনলোডের মাশুল: প্লে-স্টোর বা অজানা ওয়েবসাইট থেকে স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ (যেমন AnyDesk বা TeamViewer) ডাউনলোড করলে আপনার ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড চুরি হতে পারে।
-
ফ্রি ওয়াইফাই-এর ফাঁদ: রেল স্টেশন বা শপিং মলের পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে অনলাইন লেনদেন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহার করে হ্যাকাররা সহজেই আপনার তথ্য ট্র্যাক করতে পারে।
টাকা কেটে গেলে কী করবেন?
যদি কোনো কারণে আপনি জালিয়াতির শিকার হন এবং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যায়, তবে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। ১. দ্রুত অভিযোগ: যত দ্রুত সম্ভব আপনার ব্যাঙ্কে ফোন করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করুন। ২. সাইবার সেল: জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করুন অথবা www.cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন।
মনে রাখবেন: গোল্ডেন আওয়ার অর্থাৎ টাকা কাটার প্রথম ১-২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ জানালে সেই টাকা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।