জিমে যাওয়ার সময় নেই? রোজ মাত্র ১০ মিনিট স্কিপিং করলেই ঝরবে মেদ! জানুন চিকিৎসকদের রায়

ফিটনেস দুনিয়ায় স্কিপিং নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। কেউ বলেন এটি সবথেকে ভালো কার্ডিও, আবার কেউ ভয় পান হাঁটু নষ্ট হওয়ার। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করছেন যে, ওজন কমাতে স্কিপিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। এটি কেবল একটি খেলা নয়, বরং একটি ‘ফুল বডি ওয়ার্কআউট’।

স্কিপিং কি সত্যিই মেদ ঝরায়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা:
চিকিৎসকদের মতে, স্কিপিং হলো একটি উচ্চ-তীব্রতার কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম।

ক্যালোরি বার্ন: গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিট স্কিপিং করা প্রায় ৮ মিনিট দৌড়ানোর সমান। এক ঘণ্টা স্কিপিং করলে শরীর থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ ক্যালোরি খরচ হতে পারে, যা অন্য অনেক ব্যায়ামের তুলনায় অনেক বেশি।

মেটাবলিজম বৃদ্ধি: স্কিপিং করলে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে ব্যায়াম শেষ করার পরেও শরীর ক্যালোরি পোড়াতে থাকে।

পেশির গঠন: এটি কেবল চর্বি কমায় না, বরং পা, পেট এবং হাতের পেশিকে সুঠাম (Toning) করতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকদের ৩টি বিশেষ সতর্কতা:
স্কিপিং দারুণ কার্যকর হলেও সবার জন্য এটি সমান নয়। চিকিৎসকরা কিছু বিষয়ে সাবধান করেছেন:
১. হাঁটু ও জয়েন্টের সমস্যা: যাদের লিগামেন্টে চোট বা হাড়ের সমস্যা আছে, তাদের স্কিপিং এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ লাফানোর সময় শরীরের সব ওজন হাঁটুর ওপর পড়ে।
২. জুতো নির্বাচন: খালি পায়ে বা চটি পরে স্কিপিং করবেন না। ভালো মানের স্পোর্টস সু ব্যবহার করুন যা লাফের ঝটকা (Shock) শুষে নিতে পারে।
৩. হার্টের রোগীদের জন্য: যাদের হার্টের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা সরাসরি স্কিপিং শুরু না করে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কীভাবে শুরু করবেন?
হুট করে প্রথম দিনেই ১০০-২০০ বার লাফাতে যাবেন না। প্রথম দিকে ১-২ মিনিট করে শুরু করুন, তারপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। মনে রাখবেন, ওজন কমাতে স্কিপিংয়ের পাশাপাশি সঠিক ডায়েটও জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy