আঙুর খাচ্ছেন নাকি বিষ? সাধারণ জলে ধুলে কিন্তু দূর হয় না কীটনাশক! জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

আঙুর এমন একটি ফল যার খোসা আমরা ফেলে দিই না, সরাসরি খাই। কিন্তু সমস্যা হলো, আঙুর চাষে যে ধরনের অর্গানোফসফেট বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয়, তা এর গায়ে এক ধরণের মোমজাতীয় বা আঠালো সাদা আস্তরণ তৈরি করে। সাধারণ কলকলানো জলে ধুলে এই বিষাক্ত অংশটি পুরোপুরি যায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

তাহলে কি আঙুর খাওয়া বন্ধ করবেন? একদমই নয়! চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস দিয়েই আঙুরকে করা যায় ১০০% নিরাপদ।

কীভাবে পরিষ্কার করবেন? সেরা ৩টি ঘরোয়া পদ্ধতি:
১. নুন ও বেকিং সোডার ম্যাজিক (সবথেকে কার্যকর):
একটি বড় পাত্রে জল নিয়ে তাতে এক চা-চামচ বেকিং সোডা এবং এক চামচ নুন মিশিয়ে নিন। এবার আঙুরের থোকা থেকে আঙুরগুলো আলাদা করে ওই জলে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। বেকিং সোডা কীটনাশকের রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে দেয় এবং নুন জীবাণু ধ্বংস করে। এরপর পরিষ্কার ঠান্ডা জলে একবার ধুয়ে নিন।

২. ভিনেগারের ব্যবহার:
এক ভাগ সাদা ভিনেগার (White Vinegar) এবং তিন ভাগ জলের মিশ্রণে আঙুর ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। ভিনেগার ফলের গায়ের ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং মোমের আস্তরণ সরাতে অতুলনীয়। এরপর জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেই আঙুর খাওয়ার জন্য তৈরি।

৩. ময়দা বা চালের গুঁড়োর ঘর্ষণ:
শুষ্ক পদ্ধতিতে আঙুর পরিষ্কার করতে চাইলে, আঙুরের ওপর সামান্য শুকনো ময়দা বা চালের গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন। এবার আলতো করে হাত দিয়ে আঙুরগুলো ঘষুন। ময়দা আঙুরের গায়ের আঠালো ময়লা ও সাদাটে আস্তরণ টেনে নেয়। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কয়েকটি জরুরি সতর্কতা:
আঙুর ছিঁড়ে ধোবেন: থোকায় থাকলে অনেক সময় ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ থেকে যায়, তাই দানাগুলো আলাদা করে ধোয়াই ভালো।

খাওয়ার ঠিক আগে ধুন: আঙুর ধুয়ে ফ্রিজে রাখবেন না, এতে দ্রুত পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবসময় খাওয়ার ঠিক আগে পরিষ্কার করুন।

সাদাটে আস্তরণ: আঙুরের গায়ে যে হালকা সাদা পাউডার থাকে তাকে ‘Bloom’ বলে, যা প্রাকৃতিক। কিন্তু এটি যদি চিটচিটে বা ভারী হয়, তবে বুঝবেন তা রাসায়নিক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy