শীত বিদায় নিলেই বাজার থেকে উধাও হবে টাটকা কড়াইশুঁটি। তখন চড়া দামে সুপারমার্কেট থেকে ফ্রোজেন মটর কেনা ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু প্যাকেটজাত সেই মটরে অনেক সময় রং ও প্রিজারভেটিভ মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। চিন্তার কিছু নেই! মাত্র ১৫ মিনিটের পরিশ্রমে আপনি বাড়িতেই একদম প্রাকৃতিক উপায়ে সারা বছরের জন্য কড়াইশুঁটি স্টোর করে রাখতে পারেন।
হিমায়িত করার ধাপে ধাপে পদ্ধতি (Blanching Method):
১. সঠিক বাছাই: প্রথমে কড়াইশুঁটিগুলো দানা বের করে নিন। মরা, পচা বা খুব ছোট দানাগুলো আলাদা করে দিন। কেবল পুষ্ট ও সবুজ দানাগুলোই সংরক্ষণের জন্য বেছে নিন।
২. ব্লাঞ্চিং (Blanching): একটি বড় পাত্রে জল ফুটিয়ে নিন। জল টগবগ করে ফুটতে শুরু করলে তাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে দিন। চিনি কড়াইশুঁটির উজ্জ্বল সবুজ রং ধরে রাখতে সাহায্য করে। এবার ফুটন্ত জলে কড়াইশুঁটিগুলো দিয়ে দিন।
৩. মাত্র ২ মিনিট: মটরশুঁটিগুলো জলে দেওয়ার পর যখন সেগুলো ভেসে উঠবে, ঠিক ২ মিনিট পরেই জল থেকে তুলে নিন। বেশিক্ষণ সেদ্ধ করবেন না।
৪. বরফ-জল স্নান (Ice Bath): গরম জল থেকে তুলেই দেরি না করে কড়াইশুঁটিগুলো একদম কনকনে ঠান্ডা বরফ-জলে দিয়ে দিন। এতে সেদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যাবে এবং মটরগুলো কুঁচকে যাবে না।
৫. জল শুকানো: ৫ মিনিট পর বরফ-জল থেকে ছেঁকে নিয়ে একটি সুতির কাপড়ের ওপর মটরগুলো ছড়িয়ে দিন। ফ্যানের তলায় রেখে জলটা পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। মনে রাখবেন, গায়ে জল থাকলে ফ্রিজে বরফ জমে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সংরক্ষণের সেরা উপায়:
পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ছোট ছোট জিপলক ব্যাগ (Ziplock Bag) বা এয়ারটাইট কন্টেনারে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যবহারের সময় এক একটি ছোট প্যাকেট বের করে সরাসরি রান্নায় দিতে পারবেন।
কেন এই পদ্ধতি সেরা?
সাশ্রয়ী: সিজন শেষে চড়া দামে কেনার ঝামেলা নেই।
রাসায়নিক মুক্ত: বাজারের ফ্রোজেন মটরের মতো এতে কোনো ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ থাকে না।
স্বাদ অটুট: এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে রান্নায় দেওয়ার পর আপনি টাটকা কড়াইশুঁটির স্বাদ ও গন্ধই পাবেন।