সোমবার সকালে রাজস্থানের আলওয়ার জেলার ভিওয়ান্ডিতে এক রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১৩ জন। কারখানার ভেতরে এখনও কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল শিল্পতালুক
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, খুশখেদা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার ওই কারখানায় সোমবার সকালে তখন শিফট বদলের তোড়জোড় চলছিল। সেই সময় কারখানার ভেতরে প্রায় ২৫ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে গোটা কারখানা আগুনের গ্রাসে চলে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ, যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন:
“রাজস্থানের ভিওয়ান্ডিতে এই অগ্নিকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আগুন লাগার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ২০টি ইঞ্জিন। কারখানায় প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন নেভাতে জলের পাশাপাশি প্রচুর ফোম ব্যবহার করা হয়। ভিওয়ান্ডির অতিরিক্ত জেলাশাসক সুমিতা মিশ্র জানান, প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভেতরে এখনও কিছু ‘পকেট ফায়ার’ বা ছোট ছোট আগুন জ্বলছে।
তদন্তের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ
ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডেপুটি পুলিশ সুপার শিবরাজ সিং এবং জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন:
-
কারখানায় অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না।
-
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেরোনোর রাস্তাগুলো খোলা ছিল কি না।
-
সরকারি নিয়ম মেনে রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল কি না।
রাজস্থান সরকার এবং জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে।