জন্মগত ত্রুটি হোক বা পরবর্তীকালে কোনো সংক্রমণ— শিশুদের হৃদরোগের সমস্যা বর্তমানে ক্রমশ বাড়ছে। অনেক সময় সঠিক লক্ষণের অভাবে বা সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে আমরা বিষয়টিকে এড়িয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো ধরা পড়লে শিশুদের হার্টের অধিকাংশ সমস্যাই নিরাময়যোগ্য। আপনার সোনামণির অজান্তেই কোনো বিপদ ঘনিয়ে আসছে না তো?
কখন বুঝবেন শিশুর হৃদযন্ত্রে সমস্যা আছে?
আপনার শিশুর মধ্যে যদি নিচের এই ৫টি লক্ষণের যেকোনো একটিও নিয়মিত দেখা যায়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট: সামান্য খেলাধুলা করলেই যদি শিশু হাঁপিয়ে ওঠে বা জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে, তবে তা হার্টের দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে।
নীলাভ ভাব (Cyanosis): কান্নার সময় বা পরিশ্রমের সময় শিশুর ঠোঁট, জিব বা নখের চারপাশ যদি নীলচে রঙের হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে।
স্তন্যপানে অনীহা ও ক্লান্তি: নবজাতকদের ক্ষেত্রে দুধ খাওয়ার সময় কপালে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা বারবার হাঁপিয়ে গিয়ে দুধ খাওয়া থামিয়ে দেওয়া একটি বড় সংকেত।
ওজন না বাড়া: পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও যদি শিশুর ওজন সঠিক হারে না বাড়ে, তবে তা অভ্যন্তরীণ কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
বারবার নিউমোনিয়া: যেসব শিশুর হৃদযন্ত্রে জন্মগত ছিদ্র থাকে, তাদের বারবার ফুসফুসে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
কেন হয় এই সমস্যা?
১. জন্মগত ত্রুটি (Congenital): গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি বা ভুল ওষুধ সেবনের ফলে হার্টের গঠন অসম্পূর্ণ থাকতে পারে।
২. সংক্রমণ: অনেক সময় ভাইরাল ফিভার বা রিউম্যাটিক ফিভার থেকেও শিশুদের হার্টের ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিভাবকদের জন্য করণীয়:
জন্মের পর শিশুর হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক কি না পরীক্ষা করান।
গর্ভবতী অবস্থায় নিয়মিত চেকআপ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন।
শিশুর অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতা রোধ করতে সুষম খাদ্যের অভ্যাস করান।