পাঙ্গাস মাছ কি সত্যিই বিষ? খাওয়ার আগে জানুন গা শিউরে ওঠা এই তথ্য!

মাছের বাজারে সবথেকে সস্তা এবং জনপ্রিয় মাছের নাম জানতে চাইলে সবার আগেই উঠে আসে পাঙ্গাস। কাঁটা কম এবং দাম আয়ত্তের মধ্যে হওয়ায় মধ্যবিত্তের পাতে এই মাছের আনাগোনা লেগেই থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে পাঙ্গাস মাছ নিয়ে ছড়িয়েছে নানা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি। কেউ বলছেন এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, আবার কেউ বলছেন এটি ‘বিষাক্ত’। আসল সত্যটা ঠিক কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ভয়ের কারণ আসলে কী?
পাঙ্গাস নিয়ে ভয়ের মূল কারণ এর চাষ পদ্ধতি। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে:

অস্বাস্থ্যকর খাবার: বদ্ধ জলাশয়ে নোংরা আবর্জনা বা পশুর বর্জ্য খাইয়ে এই মাছ বড় করা হয়।

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার: মাছ দ্রুত বড় করতে এবং রোগমুক্ত রাখতে অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোন প্রয়োগ করা হয়।

ভারী ধাতু: কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত জলে চাষ হলে এই মাছের শরীরে সিসা বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু প্রবেশ করতে পারে।

পুষ্টি নাকি ঝুঁকি? বিজ্ঞানের বয়ান
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, পাঙ্গাস মাছ নিজে বিষাক্ত নয়। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে সমস্যাটা মাছের প্রজাতিতে নয়, বরং চাষের পরিবেশে। উন্নত মানের ফিড (Feed) ব্যবহার করে পরিষ্কার জলে চাষ করা পাঙ্গাস স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ক্ষতিকর নয়। বরং সামুদ্রিক বা বড় নদীর পাঙ্গাসে পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকে।

খাওয়ার আগে যা মাথায় রাখবেন:
১. উৎস জানুন: সম্ভব হলে নদী বা ভালো খামারের মাছ কেনার চেষ্টা করুন।
২. ভালো করে ধোয়া: রান্নার আগে নুন ও গরম জল দিয়ে মাছ ভালো করে ধুয়ে নিলে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার ঝুঁকি কমে।
৩. অতিরিক্ত চর্বি বর্জন: পাঙ্গাস মাছের পেটির চর্বিতে অনেক সময় ক্ষতিকর উপাদান জমে থাকে। তাই চর্বিযুক্ত অংশ বাদ দিয়ে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সম্পাদকের টিপস: ভয় না পেয়ে সচেতন হোন। সস্তা মানেই তা বিষ নয়, আবার সব সস্তাই নিরাপদ নয়। সঠিক উৎস থেকে মাছ কিনলে পাঙ্গাস হতে পারে আপনার প্রোটিনের সাশ্রয়ী সমাধান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy