দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার পর, এবার সেই রণকৌশল নিয়ে মুখ খুললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য যা যা পদক্ষেপ প্রয়োজন, সরকার তা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ের মতো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সংস্কার আমাদের কেবল স্লোগান নয়, এটি আমাদের অঙ্গীকার যা আমরা পূরণ করেছি।” বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণকে সরকারের প্রধান কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। এই লক্ষ্যেই চলতি অর্থবছরের মোট প্রতিরক্ষা বাজেট ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
বাজেটের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা মূলধন ব্যয় (Capital Expenditure)। আধুনিক মারণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং প্রযুক্তি ক্রয়ের জন্য এই বরাদ্দ ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে কেবল মুনাফার দিকে নজর না দিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ক্ষেত্রে দ্রুত বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক নীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মোদী জানান, ভারত বর্তমানে ৩৮টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করতে সফল হয়েছে। এই চুক্তির ফলে টেক্সটাইল, চামড়া, হস্তশিল্প এবং এমএসএমই (MSME) ক্ষেত্রগুলি বিশ্ববাজারে নতুন দিশা পাবে। প্রতিটি সরকারি সিদ্ধান্তে নারী কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, ২০২৬-এর এই বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়, বরং ভারতকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার এক শক্তিশালী রোডম্যাপ।