বিএনপির জয়জয়কার, ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ‘এনসিপি’ কেন মুখ থুবড়ে পড়ল?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে এককভাবে ২১২টি আসন পেয়ে চমক দেখিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি।

বিএনপির কৌশলী জয়: দূরত্বেই বাজিমাত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাসনে থেকেও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সুনিপুণ সাংগঠনিক পরিকল্পনা এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরাসরি জোটে না গিয়ে ‘দূরত্ব বজায় রাখার’ যে কৌশল বিএনপি নিয়েছিল, তাতে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ দলটির প্রতি ঝুঁকেছে। ফলে এককভাবে ২১২টি আসন দখল করে দলটি এখন সরকার গঠনের পথে।

জামায়াতের উত্থান ও এনসিপির ভরাডুবি

নির্বাচনে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী জোট, যারা পেয়েছে ৭৭টি আসন। অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) চরম প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামলেও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা মাত্র ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও দলের হেভিওয়েট নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেদের আসনে জয়ী হয়েছেন, কিন্তু সামগ্রিক ফল দলের জন্য হতাশাজনক।

কেন হারল এনসিপি? বিশ্লেষকদের চোখে ৩টি কারণ:

১. জামায়াত-নির্ভরতা: ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইতিহাস থাকা জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে এনসিপির ‘কৌশলগত ভুল’ হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।

২. অন্তর্বর্তী সরকারের দায়: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভের আঁচ এনসিপির ওপর পড়েছে।

৩. অভ্যন্তরীণ কোন্দল: জোট গঠন নিয়ে দলের ভেতরে থাকা মতভেদ এনসিপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।

এক নজরে নির্বাচনী ফলাফল (২৯৯ আসন)

দল/জোট প্রাপ্ত আসন সংখ্যা
বিএনপি ২১২
জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ০৬
অন্যান্য ০৪

(নোট: একটি আসনে ভোট স্থগিত এবং চট্টগ্রামের ২টি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।)

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy