পুনেতে বাঙালি শ্রমিক খুনে নয়া মোড়! মদ্যপ অবস্থায় বচসা না কি বিদ্বেষ? পুলিশের দাবিতে তোলপাড়

পুনেতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনিয়ে উঠল ধোঁয়াশা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘ঘৃণামূলক অপরাধ’ বা ‘হেট ক্রাইম’ বলে সরব হলেও, পুনে গ্রামীণ পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। পুলিশের দাবি, ভাষাভিত্তিক বিদ্বেষ নয়, বরং মদ্যপান পরবর্তী বচসার জেরেই প্রাণ হারাতে হয়েছে পুরুলিয়ার এই যুবককে।

সিসিটিভি ফুটেজে কী পাওয়া গেল?

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পুনের কোরেগাঁও এলাকায় ২৪ বছর বয়সী সুখেন মাহাতোর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ ইন্সপেক্টর দীপ্রতন গায়কোয়াড় জানান:

  • বিকেল ৩টে নাগাদ কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরোলেও সুখেন কর্মস্থলে যাননি।

  • সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে ওই এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

  • একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সুখেন দুই ব্যক্তির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন। যদিও খুনের সরাসরি দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েনি, তবে এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ও পুলিশের পাল্টা দাবি

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি দাবি করেন, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই সুখেনকে টার্গেট করা হয়েছিল। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তোলেন তিনি।

তবে পুনে গ্রামীণ পুলিশের সাফ কথা— “প্রাথমিক তদন্তে একে ভাষা বা পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে মনে হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত কোনো ‘হেট ক্রাইম’-এর প্রমাণ মেলেনি। সম্ভবত মদ্যপ অবস্থায় বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।”

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুনে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। সুখেন মাহাতোর পরিবার ও তাঁর সহকর্মীদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।

সম্পাদনা নোট: পরিযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তাকে ঘিরে একদিকে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তখন পুলিশের এই বয়ান মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। এখন দেখার, অভিযুক্তরা ধরা পড়লে কী মোটিভ বেরিয়ে আসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy