বাড়ি থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোচ্ছেন ঠিক তখনই পাশে কেউ ‘হ্যাঁ-চ্চো’ করে উঠল— আর অমনি বড়রা বলে ওঠেন, “একটু দাঁড়িয়ে জল খেয়ে যাও, যাত্রা অশুভ!” আমাদের লোকজীবনে এই বিশ্বাস এতটাই শিকড় গেড়েছে যে, শিক্ষিত মানুষও শুভ কাজের আগে হাঁচি পড়লে কিছুটা কুঁকড়ে যান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শাস্ত্র বা বিজ্ঞান কি সত্যিই একে অশুভ মনে করে?
আসুন জেনে নিই এই প্রাচীন বিশ্বাসের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু চমকপ্রদ ব্যাখ্যা।
১. শাস্ত্র ও জ্যোতিষের ব্যাখ্যা
জ্যোতিষশাস্ত্রের কিছু প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়েছে, হাঁচি পড়লে শরীর ও মনের মনোযোগে এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুতি ঘটে। বিশেষ করে কেউ যদি আপনার পেছনের দিক থেকে বা বাম দিক থেকে হাঁচি দেয়, তবে তাকে প্রাচীন বিশ্বাসে যাত্রার জন্য প্রতিকূল ধরা হতো। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি কোনো অভিশাপ নয়, বরং এক ধরণের ‘সতর্কবাণী’ হিসেবে দেখা হতো যাতে আপনি পূর্ণ সচেতনভাবে কাজে বেরোন।
২. বৈজ্ঞানিক যুক্তি কী?
বিজ্ঞানের চোখে হাঁচি কোনো অশুভ বিষয় নয়, বরং এটি শরীরের একটি ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’। নাকে ধুলোবালি বা ব্যাকটেরিয়া ঢুকলে মস্তিস্কের সংকেতে শরীর তা জোর করে বের করে দেয়।
মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়া: হাঁচি দেওয়ার সময় আমাদের চোখ আপনাতেই বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীরের প্রতিটি পেশি সংকুচিত হয়। শুভ কাজে বেরোনোর মুহূর্তে এমন হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকতে পারে, সেই কারণেও হয়তো প্রাচীনকালে একটু বিশ্রাম নেওয়ার চল ছিল।
৩. কেন জল খাওয়ার কথা বলা হয়?
পুরোনো প্রবাদ অনুযায়ী, হাঁচি দেওয়ার পর একটু জল খেয়ে বেরোনো শুভ। এর পেছনেও রয়েছে শরীরচর্চার যুক্তি। হাঁচি দিলে শরীরে যে কম্পন বা মৃদু ঝাঁকুনি হয়, জল খেলে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং হার্ট রেট স্থিতিশীল হয়। এটি মস্তিস্ককে শান্ত করতেও সাহায্য করে।
৪. সব হাঁচি কি অশুভ?
প্রাচীন লোককথায় বলা হতো, যদি কোনো ব্যক্তি জোড়া হাঁচি দেয়, তবে সেটি অশুভ নয়। আবার খেতে বসে বা পুজোর কাজে হাঁচি দেওয়াকেও অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হয়।
উপসংহার:
আসলে ‘অশুভ’ ভাবনার পুরোটাই মানসিক। আপনি যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং পূর্ণ সচেতনভাবে কাজে বেরোন, তবে একটি সাধারণ হাঁচি আপনার সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। তবে হ্যাঁ, অসুস্থতার কারণে বারবার হাঁচি হলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই হবে আসল বুদ্ধিমত্তার কাজ।