শীতকাল হোক বা গরমকাল, মাথার ত্বকের সমস্যায় আমরা প্রায়ই ভুগি। জামার কাঁধে সাদা সাদা দানাদার কিছু পড়লেই আমরা ধরে নিই সেটা খুশকি। আর সাথে সাথে বাজার থেকে কড়া অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু কিনে ব্যবহার শুরু করি। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে মস্ত বড় ভুল। চিকিৎসকদের মতে, খুশকি (Dandruff) এবং শুষ্ক মাথার ত্বক (Dry Scalp)— এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা। খুশকির ওষুধ যদি শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করেন, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে।
চিনে নিন আপনার সমস্যাটি আসলে কী এবং তার সমাধানই বা কী:
১. সাদা গুঁড়ো কি ছোট না বড়?
যদি মাথার ত্বক থেকে ঝরে পড়া সাদা অংশগুলো খুব ছোট, শুষ্ক এবং ঝুরঝুরে হয়, তবে সেটি ড্রাই স্ক্যাল্প। আর যদি সাদা বা হলদেটে অংশগুলো বড় বড় আঁশের মতো হয় এবং স্পর্শ করলে কিছুটা চটচটে বা তেলতেলে লাগে, তবে সেটি হলো খুশকি।
২. তৈলাক্ত ভাব নাকি খসখসে ভাব?
খুশকি মূলত মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেলের (Sebum) কারণে জন্মানো এক ধরণের ছত্রাক (Malassezia) থেকে হয়। অন্যদিকে, মাথার ত্বকে আর্দ্রতা বা তেলের অভাব হলে চামড়া ফেটে যায় এবং ড্রাই স্ক্যাল্পের সমস্যা দেখা দেয়।
৩. চুলকানির ধরণ
ড্রাই স্ক্যাল্পে মাথার ত্বক খুব টানটান এবং চুলকানি অনুভূত হয়। কিন্তু খুশকি হলে স্ক্যাল্পে জ্বালাপোড়া হতে পারে এবং ত্বক সবসময় তেলতেলে ও অপরিষ্কার মনে হয়।
ভুল চিকিৎসায় মহাবিপদ!
ড্রাই স্ক্যাল্পের সমস্যায় যদি আপনি অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, তবে সেই শ্যাম্পু আপনার ত্বকের অবশিষ্ট আর্দ্রতাও শুষে নেবে। এতে ত্বক আরও বেশি ফেটে যাবে এবং চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে, খুশকি হলে চুলে বেশি তেল মাখলে সেই তেল ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেবে, ফলে সমস্যা আরও জাঁকিয়ে বসবে।
প্রতিকার কী?
শুষ্ক ত্বকের জন্য: নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করুন। সালফেট-মুক্ত মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
খুশকির জন্য: চিকিৎসকের পরামর্শ মতো কিটোকোনাজল (Ketoconazole) যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত দু’বার মাথার ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করুন।
উপসংহার:
আপনার সমস্যাটি ঠিক কোনটি তা না বুঝে কোনো এক্সপেরিমেন্ট করবেন না। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক রোগ নির্ণয়ই হলো সুস্থ চুলের প্রথম ধাপ।