বডি বিল্ডিং হোক বা সুস্বাস্থ্যের খোঁজ— অনেকেরই ধারণা, রান্নার ফলে ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়, তাই কাঁচা ডিম খেলে বেশি প্রোটিন মেলে। সিনেমা বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে গ্লাসে কাঁচা ডিম গুলে খাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিজ্ঞান কী বলছে? কাঁচা ডিমে কি সত্যিই বেশি প্রোটিন থাকে, নাকি এটি কেবলই একটি ভ্রান্ত ধারণা?
পুষ্টিবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি ডেকে আনতে পারে। জেনে নিন কেন:
১. প্রোটিন শোষণ (Protein Absorption)
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীর সেদ্ধ বা রান্না করা ডিমের প্রোটিন প্রায় ৯০% গ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে, কাঁচা ডিমের ক্ষেত্রে শরীর মাত্র ৫০% প্রোটিন শোষণ করতে সক্ষম। অর্থাৎ, প্রোটিনের চাহিদার কথা মাথায় রাখলে সেদ্ধ ডিমই আসল বিজয়ী।
২. বায়োটিনের অভাব
কাঁচা ডিমে ‘অ্যাভিডিন’ (Avidin) নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে যা শরীরে ভিটামিন B7 বা বায়োটিন শোষণে বাধা দেয়। দীর্ঘদিন কাঁচা ডিম খেলে শরীরে বায়োটিনের অভাব হতে পারে, যার ফলে চুল পড়া এবং ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। ডিম রান্না করলে এই অ্যাভিডিন নষ্ট হয়ে যায়।
৩. সালমোনেলা সংক্রমণের ঝুঁকি
কাঁচা ডিমে ‘সালমোনেলা’ (Salmonella) নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা এবং প্রচণ্ড জ্বরের মতো গুরুতর ফুড পয়জনিং হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৪. হজমের সমস্যা
কাঁচা ডিমের সাদা অংশ হজম করা অনেকের জন্যই বেশ কঠিন। এটি পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে। বিপরীতে, সেদ্ধ বা পোচ করা ডিম অনেক বেশি সহজপাচ্য।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
পেশি গঠন বা প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে আপনি যদি নিয়মিত ডিম খান, তবে তা সেদ্ধ, পোচ বা অমলেট করে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি। কাঁচা ডিম খাওয়ার হুজুগে নিজের অজান্তে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াবেন না।