শীতের বাজারে এখন সবুজ আর সাদা রঙের দাপট। একদিকে যেমন টাটকা ফুলকপি মন কাড়ছে, অন্যদিকে ডায়েট সচেতনদের থলিতে জায়গা করে নিচ্ছে ব্রোকোলি। কিন্তু যখন প্রশ্ন ওঠে পুষ্টিগুণ আর স্বাদের শ্রেষ্ঠত্বের, তখন লড়াইটা বেশ হাড্ডাহাড্ডি হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে— আদতে কে বেশি উপকারী? জনপ্রিয়তায় টেক্কা দিচ্ছে কে? আসুন জেনে নিই এই বিষয়ে পুষ্টিবিদরা ঠিক কী বলছেন।
পুষ্টির যুদ্ধে কে এগিয়ে?
দেখতে অনেকটা এক হলেও, পুষ্টির বিচারে ব্রোকোলি এবং ফুলকপির মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
ভিটামিন ও খনিজ: পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন C এবং ভিটামিন K-এর উপস্থিতিতে ব্রোকোলি অনেকটা এগিয়ে। ব্রোকোলিতে ফুলকপির তুলনায় বেশি পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে।
ক্যালোরি ও ফাইবার: যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য দুটিই ভালো। তবে ব্রোকোলিতে ফাইবারের পরিমাণ কিছুটা বেশি, যা হজম ক্ষমতা বাড়াতে এবং পেট অনেকক্ষণ ভর্তি রাখতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: ব্রোকোলিতে থাকা ‘সালফোরাফেন’ ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ফুলকপিতে রয়েছে ‘অ্যালিসিন’, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
স্বাদের লড়াই
স্বাদের দিক থেকে বাঙালির হেঁশেলে ফুলকপিই রাজা। ডালনা হোক বা রোস্ট— ফুলকপির নিজস্ব একটি মিষ্টি স্বাদ ও টেক্সচার রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রোকোলি কিছুটা তেতোটে স্বাদের হতে পারে, তবে স্যুপ বা স্যালাডে এর ব্যবহার এখন ব্যাপক জনপ্রিয়।
পুষ্টিবিদের চূড়ান্ত পরামর্শ
পুষ্টিবিদদের মতে, “কাউকে এককভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা কঠিন। কারণ দুটিরই নিজস্ব কিছু গুণ রয়েছে। তবে মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টসের দিক থেকে ব্রোকোলি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, সহজলভ্যতা এবং বাজেটের কথা ভাবলে ফুলকপিও কিন্তু পিছিয়ে নেই।”
উপসংহার: আপনার যদি আয়রন বা হাড়ের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন থাকে, তবে ব্রোকোলিকে প্রাধান্য দিন। আর যদি নিয়মিত সুষম খাবার হিসেবে কিছু রাখতে চান, তবে ফুলকপিই সেরা বিকল্প। তবে সেরা ফল পেতে ঋতু অনুযায়ী দুটি সবজিই অল্টারনেট করে ডায়েটে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।