একবিংশ শতাব্দীর তথাকথিত সভ্য সমাজ যে নারীদের জন্য আজও কতটা অসুরক্ষিত, তার প্রমাণ মিলল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে। উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা চিরো নামের এক তরুণী সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন ইনস্টাগ্রামে। মন্দিরে যাওয়ার পথে তিন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁকে কীভাবে নাগাড়ে হেনস্থা করে গেল, তার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে প্রতিবাদের সুর চড়িয়েছেন তিনি।
চিরো জানিয়েছেন, তিনি একাই মন্দিরে যাচ্ছিলেন। সেই সুযোগে তিন যুবক তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করে। শুরু হয় অশ্লীল শব্দ করা, কুরুচিকর অঙ্গভঙ্গি এবং চিৎকার করে গান গেয়ে উত্ত্যক্ত করা। চিরোর অভিযোগ, তাঁর পাহাড়ী চেহারা দেখে ওই যুবকেরা ভেবেছিল তিনি হয়তো হিন্দি বোঝেন না। চিরো নিজের পোস্টে লিখেছেন, “ভারতে একা মেয়ে হেঁটে গেলে বোধহয় সেটা পুরুষদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে অবাক করা দৃশ্য হয়ে দাঁড়ায়। আমি দেখতে একটু আলাদা বলেই কি এভাবে বারবার অপমানিত হতে হবে?”
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই তিন যুবক ক্যামেরার সামনে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে হাসি-ঠাট্টা এবং নোংরা অঙ্গভঙ্গি করে চলেছে। চিরো জানান, ভিডিওতে তাঁকে হাসতে দেখা গেলেও আসলে তিনি চিৎকার করে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চাননি। বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করার সময় নিরাপদ বোধ করতে তিনি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন। জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নয়, বরং মেয়েদের চারপাশের তিক্ত বাস্তব তুলে ধরতেই তিনি এই ভিডিও শেয়ার করেছেন।