লোকসভার অন্দরে সংঘাত এবার চরম পর্যায়ে। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধেই অনাস্থা প্রস্তাব (No-Confidence Motion) আনার সিদ্ধান্ত নিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। সোমবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলিও এই পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে মূলত চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে স্পিকারের বিরুদ্ধে। প্রথমত, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃতি দিতে তাঁকে বারণ করা হয়, অথচ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে সবরকম ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য অনৈতিকভাবে ৮ জন বিরোধী সাংসদকে বরখাস্ত করা। তৃতীয়ত, বিরোধী শিবিরের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে ‘প্রধানমন্ত্রীকে নিগ্রহের চেষ্টার’ মতো অপমানজনক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা। এবং চতুর্থত, স্পিকারের নিরপেক্ষতা হারিয়ে শাসকদলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারকে সরাতে হলে সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ মেনে অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থনসহ ২০ দিনের আগাম নোটিশ দিতে হয়। সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদের স্বাক্ষর ইতিমধ্য়েই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বেই এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে। যদিও সংখ্যাতত্ত্বে এনডিএ সরকার এগিয়ে, তবুও বিরোধীদের এই পদক্ষেপ স্পিকারের পদ এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে এক বড়সড় নৈতিক প্রশ্ন তুলে দিল।