সরকারি নিষেধাজ্ঞা আর প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবিকে কার্যত উপহাস করে আলিপুরদুয়ারে ঘটে গেল এক বড়সড় বিপর্যয়। গ্রামীণ রাস্তায় ভারী ডাম্পার চলাচলের ওপর খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুজনাই নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ল। রবিবার সকালে ফালাকাটা থানার দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড়বেলতলি এলাকায় একটি বালিবোঝাই ডাম্পার যাওয়ার সময় সেতুটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওগাঁও ও জটেশ্বরের সংযোগকারী এই সেতুটি দীর্ঘদিনের পুরনো। বালিবোঝাই ডাম্পারের ভার সহ্য করতে না পেরে এটি ভেঙে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। অল্পের জন্য ডাম্পারের চালক প্রাণে বাঁচলেও, এই ঘটনার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড়সড় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার কৃষক থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী—সবার জন্যই এখন যাতায়াত একপ্রকার স্তব্ধ।
ঘটনার খবর পেয়েই ফালাকাটা থানার আইসি প্রশান্ত বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, বারবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও এই দুর্বল সেতু দিয়ে অবৈধভাবে ডাম্পার চলাচল বন্ধ করা হয়নি। পুলিশ ডাম্পারটিকে উদ্ধারের কাজ শুরু করার পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রামীণ রাস্তায় কীভাবে ভারী যান ঢুকল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। গত ৩০ জানুয়ারি কোচবিহারেও একইরকম ঘটনা ঘটেছিল, যা ফের একবার গ্রামীণ পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক নজরদারির কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকাশ্যে এনে দিল।