থানায় হঠাৎ ‘ছদ্মবেশী’ কমিশনার! জ্যাকেট-টুপি পরে মাঝরাতে পুলিশের ক্লাস নিলেন সুপ্রতিম সরকার

কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কুর্সিতে বসার পর থেকেই তাঁর মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন সুপ্রতিম সরকার। এবার শহরের পুলিশি পরিষেবার আসল হাল হকিকত বুঝতে একেবারে রূপোলি পর্দার ‘সিংহাম’ বা ‘চাণক্য’ স্টাইলে ধরা দিলেন তিনি। কোনও দেহরক্ষী নেই, নেই প্রোটোকল কিংবা নীল বাতি লাগানো সরকারি গাড়ি— সাধারণ পোশাকে, মাথায় টুপি আর চোখে চশমা দিয়ে মাঝরাতে শহরের একাধিক থানায় পৌঁছে গেলেন খোদ নগরপাল।

অভিযোগ জানাতে লাইনে সিপি! শনিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি থানায় হঠাৎ হাজির হন এক সাধারণ নাগরিক। পরনে সাধারণ জ্যাকেট আর টুপি। ডিউটি অফিসারের কাছে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর দামি মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গিয়েছে, একটি ডায়েরি করতে চান। প্রথমে কেউই ঠাওর করতে পারেননি যে এই ব্যক্তিই শহরের শীর্ষ পুলিশকর্তা। নিয়মমাফিক বসতে বলা, প্রশ্ন করা এবং ফর্ম দেওয়ার প্রক্রিয়া যখন প্রায় শেষ, তখনই নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করেন সুপ্রতিম সরকার। মুহূর্তে স্যালুটের ঝড় আর পুলিশকর্মীদের মধ্যে হুলুস্থুল পড়ে যায়।

কেন এই অভিনব অভিযান? লালবাজার সূত্রে খবর, সম্প্রতি থানার কর্মীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা অভিযোগ নিতে গড়িমসি করার ভুরিভুরি নালিশ আসছিল। তাই কোনও সাজানো রিপোর্ট নয়, বরং বাস্তব চিত্রটা নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন সিপি। শুধু একটি নয়, রাতভর শহরের একাধিক থানায় একই কায়দায় হানা দেন তিনি। কোথাও তিনি পুলিশের ব্যবহারে খুশি হয়েছেন, আবার কোথাও কাজের পদ্ধতিতে আরও মানবিক হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

নগরপালের এই ‘আন্ডারকভার’ স্টাইল দেখে এখন রাতের কলকাতায় ডিউটি দেওয়া পুলিশকর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা। কার থানায় কখন ছদ্মবেশে ‘নগরপাল’ হাজির হন, সেই ভয়ে এখন রীতিমতো তটস্থ তিলজলা থেকে টালিগঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy