খোদ শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের সভায় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি তুলে ধরায় চরম হেনস্থার শিকার হলেন এক শিক্ষক। শনিবার বিকেলে কোচবিহারের শীতলকুচিতে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একটি সভায় এই ঘটনাটি ঘটে। শিক্ষক ইয়াসিন মিঞা যখন বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে সরব হন, ঠিক তখনই তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মাইক্রোফোন। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কোচবিহার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রজত বর্মা ও তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের উপস্থিতিতেই মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন ইয়াসিন মিঞা। তিনি অকপটে বলেন, “সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে, অথচ বেসরকারি স্কুলগুলো অনেক এগিয়ে। আমাদের মনোভাবও পাল্টানো দরকার। শিক্ষকদের সময়মতো স্কুলে আসা উচিত।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন দিয়েও কেন সরকারি স্কুল ধুঁকছে?
এই ‘তেতো সত্য’ হজম করতে পারেননি উপস্থিত তৃণমূল নেতারা। বারবার তাঁকে থামানোর চেষ্টা করা হয় এবং শেষমেশ মাইক কেড়ে নিয়ে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়। যদিও চেয়ারম্যান রজত বর্মার দাবি, শিক্ষক একই কথা বারবার বলছিলেন বলেই তাঁকে থামানো হয়েছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই শিক্ষকের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।





