অসমের রাজনীতিতে এক নতুন শোরগোল ফেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রবিবার গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সরাসরি আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ এবং তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ গগৈকে। হিমন্তর অভিযোগ, পাকিস্তানি নাগরিক তথা তথাকথিত ‘পাক এজেন্ট’ আলি তৌকির শেখের সঙ্গে গগৈ পরিবারের গভীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ওই পাকিস্তানি নাগরিক অন্তত ১৩ বার ভারত সফর করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর নেপথ্যে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি একটি মারাত্মক অভিযোগ তুলে বলেন, গৌরব গগৈয়ের স্ত্রী এলিজাবেথ গগৈকে একটি পাকিস্তানি সংস্থা বেতন প্রদান করত। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এলিজাবেথ সেই সংস্থার হয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজ করতেন। হিমন্তর কথায়, “আলি তৌকির শেখ বিশ্বজুড়ে ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বয়ান তৈরি করার কাজ করে। তার সঙ্গে ভারতের একজন সাংসদের পরিবারের এমন যোগসূত্র জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের।”
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, সামনেই নির্বাচন বা রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এই ধরনের ‘দেশদ্রোহিতা’ বা ‘পাক যোগ’-এর অভিযোগ জাতীয় স্তরে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। হিমন্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই বিষয়ের গভীরে গিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং তিনি এই তথ্যের স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারবেন। বিরোধীদের দাবি, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একটি কৌশল।





