শহরের ইট-কাঠের জঙ্গলে একাকীত্বই এখন অনেকের সঙ্গী। বিশেষ করে যাঁদের বয়স পঞ্চাশের কোঠা পেরিয়েছে, তাঁদের কাছে একাকিত্ব আরও ভয়ংকর। কেউ পারিবারিক দায় সামলাতে গিয়ে ঘর বাঁধেননি, কেউ বা জীবনসঙ্গীকে হারিয়েছেন বহু বছর আগে। এমন প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল তিলোত্তমা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে কলকাতার প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বসতে চলেছে ‘স্বয়ম্বর’ সভা।
গঙ্গার তীরে প্রেমের আসর: ‘স্বয়ম্বর: ৫০+ ম্যাচমেকিং, বিবাহ এবং সঙ্গ’ শীর্ষক এই অনন্য উদ্যোগটি ২০২৬ সালে পা দিচ্ছে একাদশতম বর্ষে। বরানগরের কুঠিঘাটের গঙ্গার ধারের ঐতিহ্যবাহী বাগানবাড়ি ‘একান্ত’-তে বসবে এই আসর। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান। ‘ঠিকানা শিমলা’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আয়োজনে অন্তত ৬০ জন প্রবীণ ও তাঁদের কাছাকাছি বয়সের মানুষ এখানে মিলিত হবেন। আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ৩০ জন মহিলা থাকবেন, যাঁরা অবিবাহিত, বিধবা কিংবা বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্ত।
সাফল্য ও চাহিদা: এই বছরের সাড়া ছিল দেখার মতো। আয়োজকরা জানিয়েছেন, রেজিস্ট্রেশন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৬০টি আসন পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ৩০০ টাকার নামমাত্র ফি দিয়ে এই সভায় নাম লিখিয়েছেন প্রবীণরা। এখানে স্রেফ দেখাশোনা নয়, থাকছে গান-নাচ ও আড্ডার মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমিতাভ দে সরকার (ঠিকানা শিমলার প্রতিষ্ঠাতা) জানিয়েছেন, আত্মীয়স্বজন থাকলেও অনেক সময় একাকীত্ব মেটে না। একজন সঠিক সঙ্গীর অভাব প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই এই প্রচেষ্টা।
সামাজিক বিবর্তন: ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী কলকাতায় প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ১১.৭৬ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে। একা থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য এই ধরনের ‘ম্যাচমেকিং’ ইভেন্ট আধুনিক সমাজে এক নতুন আশার আলো। ভালোবাসার দিবসে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চাওয়া এই মানুষগুলোর জন্য তিলোত্তমার এই বাগানবাড়ি হয়ে উঠবে এক নতুন রূপকথার সাক্ষী।





