মাসকাবারি বাজার করে আনার কয়েকদিনের মধ্যেই অনেক সময় দেখা যায় চালে কালো পোকা বা আটা-সুজিতে পোকা ধরে গেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই উপদ্রব আরও বাড়ে। বাজার চলতি অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা গেলেও তা স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ নয়। তাই পুরোনো আমলের ঠাকুরমা-দিদিমাদের সেই কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোই হতে পারে আপনার সেরা সমাধান।
চাল-ডালের পোকা তাড়াতে সেরা ৫টি টোটকা
১. তেজপাতার ম্যাজিক: তেজপাতার তীব্র গন্ধ পোকা একদম সহ্য করতে পারে না। চাল বা ডালের ড্রামের ভেতরে ৩-৪টি শুকনো তেজপাতা রেখে দিন। দেখবেন পোকা কাছেও ঘেঁষবে না।
২. নিমপাতার গুণ: প্রাচীনকাল থেকেই শস্য সংরক্ষণে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। চালের পাত্রে এক মুঠো শুকনো নিমপাতা ফেলে রাখলে ঘুণ পোকা বা অন্যান্য পতঙ্গ দূরে থাকে। তবে পাতাগুলো যেন একদম শুকনো হয়, তা নিশ্চিত করবেন।
৩. লবঙ্গ ও দারুচিনি: চাল বা সুজির কৌটোয় কয়েকটি লবঙ্গ বা দারুচিনির টুকরো ফেলে রাখুন। এর উগ্র গন্ধ পোকাদের শ্বাসরোধ করে এবং তাদের বংশবিস্তার রোধ করে।
৪. শুকনো লঙ্কা: আটা বা ময়দার পোকা তাড়াতে শুকনো লঙ্কা দারুণ কাজ করে। ২-৩টি আস্ত শুকনো লঙ্কা আটার পাত্রে রেখে দিন। লঙ্কার ঝাল ও গন্ধের কারণে কোনো পোকা সেখানে বাসা বাঁধতে পারবে না।
৫. রসুন ও গোলমরিচ: চালের পোকা তাড়াতে কয়েক কোয়া আস্ত খোসাযুক্ত রসুন ছড়িয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া একটি ছোট কাপড়ে কিছু গোলমরিচ বেঁধে চালের কৌটোয় রাখলে চাল অনেকদিন ভালো থাকে।
সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি: এডিটরস চয়েস
এয়ারটাইট কন্টেনার: চাল, ডাল বা আটা সবসময় বায়ুরোধী প্লাস্টিক বা কাঁচের পাত্রে রাখুন। বাতাস না ঢুকলে পোকা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ফ্রিজের ব্যবহার: সুজি বা ময়দা অল্প পরিমাণে হলে তা ফ্রিজে রাখতে পারেন। এতে পোকা হওয়ার ভয় একদমই থাকে না।
রোদ লাগানো: যদি পোকা লেগেই যায়, তবে রোদে ভালো করে মেলে দিন। কড়া রোদে পোকা নিজে থেকেই বেরিয়ে যায়।
উপসংহার: আপনার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা খাবার এভাবে পোকার পেটে যাক, তা নিশ্চয়ই কাম্য নয়। আজই এই সহজ টিপসগুলো ট্রাই করুন এবং আপনার রান্নাঘরকে রাখুন হাইজেনিক ও সুরক্ষিত।