৫০টি বাইক, সবার হাতে বন্দুক! রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ডে গ্রেফতার আরও ২, ‘কিংপিন’ কি সেই সোনা পাপ্পু?

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকা গোলপার্ক সংলগ্ন রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় গত রবিবারের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল কলকাতা পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রাহুল দাস ওরফে বাবু সোনা (৪০) এবং শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ (৩২)। রাহুল কসবার জগন্নাথ ঘোষ রোডের বাসিন্দা এবং শুভঙ্কর লেক থানার চ্যাটার্জি রোড এলাকার বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে খবর, এই ঘটনা নিছক দুই গোষ্ঠীর মারপিট নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা সংগঠিত অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। আলিপুর আদালতে মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী যে দাবি করেছেন, তা শুনে কার্যত চোখ কপালে ওঠার জোগাড় উপস্থিত সকলের। আইনজীবী জানান, ঘটনার দিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাইকে করে দুষ্কৃতীরা এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছিল এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, প্রত্যেকটি বাইক আরোহীর কাছেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। এমনকি নাম না করে শহরের এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী ‘সোনা পাপ্পু’-র দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার মূল চক্রী বা ‘কিংপিন’ বর্তমানে একটি খুনের মামলায় জামিনে মুক্ত থাকলেও এই গোলমালের পর থেকেই পলাতক।

অন্যদিকে, আসামী পক্ষের আইনজীবী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কেন মূল অভিযুক্তকে এখনও ধরা সম্ভব হলো না? এই মামলায় প্রথম এফআইআরে যাদের নাম ছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিরা এখনও অধরা।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় পঞ্চাননতলা এলাকার একটি ক্লাবে পিকনিক চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। যা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের আকার নেয়। চলে অবাধে ইট-পাটকেল বৃষ্টি, বোমাবাজি ও গুলি। ঘটনায় দু’জন গুরুতর আহত হন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’পক্ষ মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আলিপুর আদালত বাবলু সাউ ও ইন্দ্রজিৎ মাঝিকে ৯ ফেব্রুয়ারি এবং জয়ন্ত নস্কর ও দেবাশিস মণ্ডলকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল এবং এই সিন্ডিকেট যুদ্ধের নেপথ্যে অন্য কোন প্রভাবশালী মাথা কাজ করছে কি না।