সোমবার বাজেট অধিবেশনে লোকসভার পরিবেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল ডোকলাম ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথাকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যখন সেই বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে সরকারের ‘দেশপ্রেম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তখনই পালটা গর্জে ওঠেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। অপ্রকাশিত বই সংসদে উদ্ধৃত করা যায় কি না, তা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজায় প্রায় ৩০ মিনিট থমকে যায় অধিবেশনের কাজ।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে রাহুল গান্ধী একটি ম্যাগাজিনের নিবন্ধ বের করে বলেন, “আপনারা দেশপ্রেমের কথা বলছেন? প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানে ডোকলাম নিয়ে কী লিখেছেন শুনুন। তাহলেই বুঝবেন আসল দেশপ্রেমিক কে।” রাহুল দাবি করেন, ওই বইয়ে উল্লেখ আছে কীভাবে চিনা ট্যাঙ্ক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে একটি শৈলশিরা দখলের চেষ্টা করছিল এবং সেই সময় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সরকারের কী বার্তালাপ হয়েছিল।
রাহুলের বক্তব্যের মাঝেই বাধা দিয়ে রাজনাথ সিং প্রশ্ন তোলেন, “বইটি কি সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে? যদি না হয়, তবে একজন সাংসদ এভাবে অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি বা ম্যাগাজিন থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারেন না।” সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও সুর চড়িয়ে বলেন, স্পিকারের নির্দেশ অমান্য করে রাহুল সংসদের নিয়ম লঙ্ঘন করছেন। শেষ পর্যন্ত স্পিকার ওম বিড়লা রায় দেন যে, অপ্রকাশিত কোনও নথি বা বইয়ের অংশ সংসদে পড়া যাবে না। রাহুলের সমর্থনে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং পালটা হিসেবে অমিত শাহ আসরে নামলে বিতর্ক চরম আকার নেয়। রাহুল প্রশ্ন তোলেন, “এর ভেতর এমন কী আছে যা দেখে সরকার এত ভয় পাচ্ছে?”