২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলোর জন্য বিশেষ আর্থিক রোডম্যাপ পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। মূলত পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমানে উন্নীত করা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।
অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে বড় ধামাকা: পাহাড়ি রাজ্যগুলোতে ট্রেকিং এবং হাইকিংয়ের ব্যাপক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কেন্দ্র এবার ‘ইকোলজিক্যাল সাস্টেনেবল মাউন্টেন ট্রেইল’ বা পরিবেশবান্ধব পাহাড়ি পথ তৈরির ঘোষণা করেছে। উত্তরাখণ্ড, হিমাচল এবং জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের আরাকু উপত্যকা ও পশ্চিমঘাটেও এই ট্রেইলগুলো তৈরি হবে। এর ফলে পর্যটকরা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, পাবেন আন্তর্জাতিক মানের ট্রেকিং অভিজ্ঞতা। বাইকিং এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের ক্ষেত্রেও এটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি: পর্যটনকে পেশাদার রূপ দিতে দেশজুড়ে ২০টি আইকনিক পর্যটন কেন্দ্রে ১০,০০০ ট্যুরিস্ট গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই গাইডদের ১২ সপ্তাহের বিশেষ হাইব্রিড কোর্স করানো হবে, যাতে তারা পর্যটকদের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আতিথেয়তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে পারেন। এছাড়া একটি ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি’ স্থাপনের ঘোষণাও করা হয়েছে।
কৃষিতে বৈজ্ঞানিক বিপ্লব: পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের আয় বাড়াতে আখরোট (Walnut) এবং পাইন নাট (Pine Nuts) চাষে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথাগত চাষের বদলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই অর্থকরী ফসলগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্র বিশেষ প্রকল্প আনছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকরা বিশ্ববাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বাজেট উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলের মতো রাজ্যগুলোতে শুধু পর্যটক বাড়াবে না, বরং নতুন করে কয়েক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।