২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুরের নিজের জেতা আসন ছেড়ে কেন হঠাৎ বর্ধমান-দুর্গাপুরে আসতে হয়েছিল? আর কেনই বা সেখানে তাঁকে হারের মুখ দেখতে হলো? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্গাপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই পুরনো ক্ষত নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবার দুর্গাপুরে প্রাতর্ভ্রমণ ও চা-চক্রে যোগ দিয়ে হারের কারণ হিসেবে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ সপাটে স্বীকার করে নেন যে, বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে প্রস্তুতির অনেক খামতি ছিল। তাঁর কথায়, “পার্টি দুর্বল ছিল। উনিশে জেতার পর এখানে যেভাবে কাজ হওয়ার দরকার ছিল, তা হয়নি। সন্ত্রাস তো ছিলই, তার ওপর কর্মীরাও অনেক জায়গায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন।” মেদিনীপুর থেকে তাঁকে সরানোর যুক্তি দিয়ে দিলীপ বলেন, “মেদিনীপুরে পাঁচ বছর কাজ করে এমন সংগঠন তৈরি করেছিলাম যে দল নিশ্চিত ছিল ওটা আমরা জিতবই। তাই আমাকে এখানে কঠিন লড়াইয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শুধু প্রচার দিয়ে জেতা যায় না, সংগঠনেরও প্রয়োজন হয়।”
ছাব্বিশে কোথায় লড়বেন দিলীপ? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি দলের অনুগত সৈনিক। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “দল যেখানে বলবে, সেখানেই প্রার্থী হব। আবার দল না চাইলে লড়ব না। দল আমায় যে দায়িত্ব দেবে, আমি তা পালন করতে প্রস্তুত।” কোনো নির্দিষ্ট আসনের দাবি না জানিয়ে বরং হাইকমান্ডের ওপরই সবটা ছেড়ে দিয়েছেন পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক।