‘পদ্মশ্রী’র চেয়েও বড় উপহার পেলেন প্রসেনজিৎ! প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে এ কী দেখলেন ‘বুম্বাদা’?

২৬শে জানুয়ারি ছিল ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস, আর দিনটি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য হয়ে উঠল আক্ষরিক অর্থেই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একদিকে ভারত সরকার তাঁকে ভূষিত করেছে সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ (Padma Shri) উপাধিতে, অন্যদিকে তাঁর অভিনীত নতুন ছবি ‘বিজয়নগরের হীরে’ বক্স অফিসে কার্যত সুনামি সৃষ্টি করেছে। খুশির জোয়ারে ভাসছেন টলিউডের অভিভাবক।

হল পরিদর্শন ও দর্শকদের উন্মাদনা: মঙ্গলবার কলকাতার একাধিক সিনেমা হলে আচমকা হানা দেন প্রসেনজিৎ। বেহালার অজন্তা থেকে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের নবীনা—সব জায়গাতেই ছবিটা এক। হলের প্রতিটি আসন ভর্তি, কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক। পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় এবং ছোট জোজো ওরফে পুষণ দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বুম্বাদা জানান, “গত চারদিন ধরে আমি ছুটে বেড়াচ্ছি। শুধু কলকাতা নয়, মুম্বই, দিল্লি থেকে চেন্নাই—সব জায়গায় ৯০ শতাংশ শো হাউজফুল। দর্শক বলছেন ‘মিশর রহস্য’-এর পর এটাই নাকি আমার সেরা ছবি। এই কৃতিত্ব পুরোটা পরিচালক চন্দ্রাশিসের।”

পদ্মশ্রী প্রাপ্তি ও পরিবারের আনন্দ: ৪০ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে এই সম্মান প্রাপ্তি নিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, “আমি, আমার পরিবার এবং গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ গর্বিত। বাংলা সিনেমার একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করেছি এতদিন। কর্তৃপক্ষ আমাকে এই সম্মানের যোগ্য মনে করায় আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিশ্বাস করুন, পদ্মশ্রীর খবরের চেয়েও বেশি আনন্দ দিচ্ছে যখন দেখছি মানুষ বাংলা সিনেমা দেখতে হলে ভিড় করছেন।” অভিনেতা আরও জানান, কয়েকদিন আগে তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় পুনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানিত হয়েছেন। বাবার সাফল্য এবং নিজের পদ্মশ্রী—সব মিলিয়ে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে এখন উৎসবের মেজাজ।

বাংলা ছবির জয়যাত্রা: এদিন প্রসেনজিৎ স্পষ্ট করে দেন যে, বড় বাজেটের হিন্দি ছবি ‘বর্ডার ২’-এর দাপট থাকলেও বাঙালি দর্শক কিন্তু বাংলা ছবিকেই আপন করে নিয়েছে। একই দিনে মুক্তি পাওয়া ‘হোক কলরব’ এবং ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ ছবি দুটিও ভালো ব্যবসা করছে। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এই ঘুরে দাঁড়ানোই প্রসেনজিতের কাছে পদ্মশ্রীর চেয়েও বড় পুরস্কার। ৪ দশকের লড়াই যে সার্থক, তা দর্শকদের এই উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy