২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জটিল হচ্ছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজেকে এবারের নির্বাচনের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে দাবি করে তিনি এখন বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ার স্বপ্নে বিভোর। এমনকি তাঁর লক্ষ্য এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বামফ্রন্ট কি আদৌ তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছে?
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু স্পষ্ট করে দিলেন যে, হুমায়ুন কবীরের পক্ষ থেকে জোটের ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। বিমান বসু বলেন, “হুমায়ুন কবীররা তো আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেনি। তারা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কথা বলছে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়টি আমাদের আলোচ্য সূচিতে আসেনি।” বর্ষীয়ান এই নেতার মন্তব্যে পরিষ্কার যে, মিডিয়াতে সরব হলেও বাম শিবিরের অন্দরে হুমায়ুনকে নিয়ে এখনও কোনো বিশেষ হেলদোল নেই।
উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবীর তাঁর ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নিয়ে ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতটাই যে, প্রয়োজনে বিজেপির পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন তিনি। যা রাজনৈতিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, জোটের রাজনীতিতে নয়া মোড় এনেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। শহীদ মিনারের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে প্রস্তুত তাঁর দল। নওশাদের কথায়, “তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয়কেই বাংলা থেকে হটাতে হবে। যারা সংবিধান ও গণতন্ত্রকে মান্যতা দেয়, তাদের সঙ্গেই আমরা থাকব।” সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও তৃণমূল ও বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের আবেদন ঝুলে থাকলেও, নওশাদের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে বামফ্রন্ট।