পুরুলিয়ায় অভিষেকের মাস্টারস্ট্রোক: ‘ব্যক্তির ওপর রাগে দলকে ত্যাগ নয়’, বিজেপি সাংসদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এখন কার্যত শিয়রে। আর এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে জঙ্গলমহলে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার পুরুলিয়ার হুড়া ব্লকের লধুড়কায় এক জনসভা থেকে জঙ্গলমহলের মানুষের মন জয়ের চেষ্টার পাশাপাশি দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রশমনে বড় বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূলের কোনো স্থানীয় পদাধিকারী যদি আপনাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তবে সেই ব্যক্তির ওপর রাগ করে দলের থেকে মুখ ফেরাবেন না। আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি ‘এক ডাকে অভিষেক’-এ ফোন করে আমাকে জানান।” তিনি মানুষের বিশ্বাস অর্জনে আরও বলেন যে, স্থানীয় স্তরে নেতা যেই হোন না কেন, ভোটাররা যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখেই ভোট দেন। নিচুতলার কর্মীদের আচরণে মানুষের যে ক্ষোভ রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েই সেনাপতির এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পুরুলিয়ার রাজনৈতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “২০১৯-এ আমরা পিছিয়ে থাকলেও ২০২৪-এর লোকসভার নিরিখে জেলার ৯টি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতেই তৃণমূল এগিয়ে। আগামী নির্বাচনে লক্ষ্য হবে ৯-০। পুরুলিয়াকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” এই প্রসঙ্গে তিনি ট্রাফিক সিগন্যালের উদাহরণ টেনে বলেন, “লাল বা গেরুয়া মানে থেমে যাওয়া, আর সবুজ মানে এগিয়ে চলা।”

কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। তিনি বিজেপি সাংসদকে সরাসরি ‘ওপেন ডিবেট’-এর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “মোদী সরকারের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড বনাম মমতা সরকারের ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে সামনাসামনি বসুন। ১০-০ গোলে ধোলাই করে যদি মাঠের বাইরে বার করতে না পারি, তবে মানুষের কাছে মুখ দেখাব না।”

রেল পরিষেবার বেহাল দশা, বন্দে ভারতের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন অভিষেক। ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাসন যোজনা—বাংলার পাওনা টাকা আটকে রাখা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। এমনকি আয়ুষ্মান ভারত ও স্বাস্থ্যসাথীর তুলনা টেনে তিনি বোঝান কীভাবে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপি ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ তুলে তিনি মা-বোনেদের আশ্বস্ত করেন, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, কেউ আপনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছুঁতে পারবে না।” সভা শেষে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলার আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy