বিটরুট কাঁচা খাবেন নাকি রান্না? জেনেনিন কোনটা বেশি উপকারী

টকটকে রানি গোলাপী রঙের বিটরুট এখন সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। সালাদ, স্যুপ কিংবা তরকারি— নানাভাবে আমরা এটি খেয়ে থাকি। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা কী বলছেন? বিটরুট কি কাঁচা খাওয়া বেশি উপকারী, নাকি রান্না করলে এর গুণাগুণ বাড়ে? সঠিক তথ্য না জানলে আপনার শরীরের বড় ক্ষতি হতে পারে।

কাঁচা বিটরুটের জাদু: আপনি যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং তাৎক্ষণিক শক্তির খোঁজ করেন, তবে কাঁচা বিটরুট আপনার সেরা বন্ধু। কাঁচা অবস্থায় এতে ভিটামিন সি, ফোলেট এবং পটাশিয়ামের মতো পুষ্টিগুণ একদম অটুট থাকে। এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয়, যা রক্তনালি প্রসারিত করে এবং হার্ট ভালো রাখে। অ্যাথলিট বা যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য কাঁচা বিটরুটের জুস স্ট্যামিনা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

সতর্কতা: তবে যাদের হজমের সমস্যা, গ্যাস বা অ্যাসিডিটি আছে, তাদের কাঁচা বিটরুট এড়িয়ে চলাই ভালো। কাঁচা বিটরুট হজম করা অনেকের পাকস্থলীর জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে।

রান্না করা বিটরুট কি গুণহীন? একদমই নয়! যারা কাঁচা সবজি হজম করতে পারেন না, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য রান্না করা বিটরুট অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজপাচ্য। হালকা ভাপে (Steam) রান্না করলে বা সেদ্ধ করলে এর ফাইবার নরম হয়ে যায়, যা অন্ত্রের জন্য আরামদায়ক। যদিও রান্না করলে ভিটামিন সি কিছুটা কমে যায়, তবে আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যথেষ্ট পরিমাণে বজায় থাকে।

রান্নার সঠিক পদ্ধতি: মনে রাখবেন, বিটরুটকে অতিরিক্ত তেল-মশলা দিয়ে ভাজলে বা দীর্ঘক্ষণ ধরে কষালে এর সমস্ত গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই পুষ্টি বজায় রাখতে:

  • হালকা সেদ্ধ বা স্টিম করে খান।

  • অতিরিক্ত ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন।

  • সালাদে খেতে চাইলে খুব পাতলা করে কুচিয়ে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

শেষ কথা: আপনার যদি হজমশক্তি ভালো থাকে, তবে সালাদ বা জুস হিসেবে কাঁচা বিটরুট খান। আর যদি পাকস্থলী সংবেদনশীল হয়, তবে হালকা রান্না করা বিটরুটই আপনার জন্য সেরা বিকল্প। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় এই দুই পদ্ধতির সমন্বয় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy