এক সময় যা ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্প, আজ তা বাস্তবের দোরগোড়ায়। প্লাগ নেই, সুইচ বোর্ড নেই, এমনকি নেই কোনো ঝঞ্ঝাটপূর্ণ তারের জঞ্জাল—স্রেফ বাতাসের মাধ্যমেই ঘর থেকে কারখানায় পৌঁছে যাবে বিদ্যুৎ! সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের একদল গবেষক এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। ওয়াইফাইয়ের (Wi-Fi) মতো করে এবার তারবিহীন বিদ্যুৎ বা ‘ওয়্যারলেস ইলেকট্রিসিটি’ সরবরাহের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা।
ইউনিভার্সিটি অফ হেলসিঙ্কি এবং ইউনিভার্সিটি অফ উলুর গবেষকরা বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই যুগান্তকারী পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, উচ্চমাত্রার আলট্রাসনিক শব্দতরঙ্গ, লেজ়ার এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে এই অসাধ্য সাধন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, আলট্রাসনিক শব্দতরঙ্গ বাতাসের ঘনত্বের ওপর প্রভাব ফেলে একটি অদৃশ্য পথ বা চ্যানেল তৈরি করে। এই অদৃশ্য পথটিই কার্যত বিদ্যুতের জন্য ‘তারের’ ভূমিকা পালন করে। ফলে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গগুলি কোনো শারীরিক স্পর্শ ছাড়াই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, লেজ়ার রশ্মির মাধ্যমে আলোকে স্বল্প তীব্রতার বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা সম্ভব, যা দীর্ঘ দূরত্বে নিরাপদে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম। এর ফলে আগামী দিনে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা যেকোনো স্মার্ট ডিভাইস চার্জ দেওয়ার জন্য আর চার্জারের প্রয়োজন পড়বে না। এমনকি দুর্গম এলাকায় যেখানে তার নিয়ে যাওয়া অসম্ভব, সেখানেও অনায়াসেই বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া যাবে। পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ না জানিয়ে বরং তাকেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহার করে এই সাফল্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার আগামী দিনে আমাদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।