ভোটযুদ্ধের উত্তাপে ফুটছে বাংলা। একদিকে সিঙ্গুরের হাইভোল্টেজ মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’ স্লোগানে ঝড় তুলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই নদিয়ার চাপড়া থেকে পাল্টা আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার আগেই তাঁর স্লোগানকে নস্যাৎ করে দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “পাল্টাবে বাংলা নয়, পাল্টাবে দিল্লি ও গুজরাতের বহিরাগতরা।”
শনিবার মালদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই নতুন স্লোগানটি দিয়েছিলেন। রবিবার সিঙ্গুরের সভাতেও সেই একই সুর শোনা যায়। এমনকি এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাতারাতি গান তৈরি করে প্রচার শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। তবে রবিবার নদিয়ার রোড শো থেকে সেই আক্রমণ ভোঁতা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিষেক। প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিবর্তন’-এর ডাককে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিজেপি বাংলার মানুষকে শাস্তি দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। কিন্তু বাংলার মানুষ জানেন কাদের পাল্টাতে হবে।”
এখানেই থামেননি অভিষেক। বিজেপির হিন্দুত্ব কার্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তৃণমূল নেতার খোঁচা, “যারা আগে শুধুমাত্র ‘জয় শ্রীরাম’ বলে সভা শুরু করত, এখন তাদের মুখে শোনা যাচ্ছে ‘জয় মা কালী’ ও ‘জয় মা দুর্গা’। এটাই তৃণমূলের নৈতিক জয় যে বিজেপিকে এখন বাংলার দেবদেবীর নাম নিতে হচ্ছে।”
নদিয়ার সভা থেকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন অভিষেক। তেহট্টের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে নর্দমা তৈরির টাকা আত্মসাৎ এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ এনে তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য পিছু হঠবে না। আবাস যোজনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বড় ঘোষণা করেন, “কেন্দ্র টাকা দেয়নি তাতে কিছু যায় আসে না। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা সরাসরি ২০ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেবে রাজ্য সরকার।”
সবশেষে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি উসকে দিয়ে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, “আগের বার স্লোগান ছিল বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়, এবারও বাংলা নিজের মেয়ের কাছেই থাকবে। দিল্লির দাদাগিরি এখানে চলবে না।”